কচুয়ায় ৪ পিস ইয়াবাসহ চিকিৎসক গ্রেপ্তার

স্টাফ রির্পোটার:

কচুয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ৪ পিস ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানী নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে। গত রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে কচুয়া সিটি হসপিটালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একদল টিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কক্ষে তল্লাশি চালায়। এসময় চিকিৎসকের কক্ষ থেকে ইয়াবা সেবনের অসংখ্য ফয়েল, নেশাজাতীয় ব্যবহৃত ইনজেকশন ও অন্যান্য মাদক সেবনের উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কচুয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.মিজানুর রহমান বলেন, কচুয়া সিটি হসপিটালের কর্মরত ডা. সৈয়দ আসিফ ইস্পাহানি দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকের সাথে সম্পর্কিত, সে নিজে মাদক সেবন করে এই তথ্যের ভিত্তিতে আজকে আমরা এখানে অভিযান করি।
অভিযানের পরবর্তী সময়ে উনার নিজের বসবাসের যে রুম (এই প্রতিষ্ঠানের তিন তলা হতে) আমরা ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি এবং ৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হই এবং ইয়াবার ব্যবহৃত যত ধরনের উপকরণ এবং সেবনের যত ধরনের উপকরণ, সমস্ত কিছু-ই আমরা জব্দ করতে সক্ষম হই। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো চিকিৎসক যাতে এ ধরনের মাদকের সাথে সম্পর্ক না থাকে, যাতে আমাদের এই সাধারণ মানুষ যারা আমরা চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকি, আমরা যাতে সঠিক সেবা পেয়ে থাকি। আমরা যাতে অবশ্যই চিকিৎসা সেবার প্রতিষ্ঠানগুলো, বেসরকারি যে হসপিটালগুলো রয়েছে, আমি সকল মালিকদেরকে আহ্বান করবো, আপনারা চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনারা আরও সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিদর্শক মো.মেহেদী হাসান, এএসআই মো. তোফায়েল আহমেদ, বেলায়েত হোসেনসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য সদস্যরা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে এফআইআর নং-২০, তারিখ- ১০ আগস্ট, ২০২৬; ৩৬(১) সারণির ১০(ক) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ রুজু করা হয়। আজ যথাযথ পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ এনেস্থেসিয়া প্রদান এবং যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও অপপ্রচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।