মতলব উত্তরে দাখিলের ফলাফলে ধস

স্টাফ রির্পোটার:

মতলব উত্তর উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে তিন ধারায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে এসএসসি ও ভোকেশনালে পাসের হার কিছুটা সন্তোষজনক হলেও দাখিলে ফলাফল বেশ হতাশাজনক। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসএসসিতে পাসের হার ৫৮.৫০ শতাংশ, দাখিলে ৩৯.৬১ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৬৬.৬৭ শতাংশ।

রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনির কাছে জমা দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৮৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন। পাসের হার ৫৮.৫০ শতাংশ বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এসএসসি ফলাফলে প্রতিষ্ঠানভেদে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৭০ শতাংশের বেশি হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তা ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে টি কাটার একাডেমি থেকে অংশ নেওয়া ৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে, মতলব উত্তর উপজেলায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক। মোট ৪৭২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১৮৭ জন। কোনো পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। ফলে দাখিলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯.৬১ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, দাখিলের বিভিন্ন মাদরাসায় পাসের হারে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের বেশি হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে দাখিলের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল অর্জন করেছে মতলব উত্তর উপজেলা। এ ধারায় মোট ২২২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৬৬.৬৭ শতাংশ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মতলব উত্তরে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে নকলসহ কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে তদারকি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতেও পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, এবারের ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে ফলাফল আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে আমরা ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।