স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর শহরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে ঝগড়া ও গালমন্দের পর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন এক সন্তানের জননী শাহনাজ আক্তার (৩৫)। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীর ভাগ্নি রিয়া ও তার শাশুড়িকে থানায় ডেকে নেয়া হয়েছে।
গতকাল চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ জিটি রোডের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বেলভিউ হসপিটালের পেছনে সরকার বাড়ির শাহ আলম শিকদারের বাসার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহনাজ আক্তার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সোবানপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী কবির পাটোয়ারীর স্ত্রী।
পরিবারের স্বজনরা ফ্ল্যাট থেকে শাহনাজকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে শাহনাজের স্বামীর আপন ভাগ্নি রিয়া মালয়েশিয়ায় থাকা তার মামা কবির পাটোয়ারীকে ফোন করে শাহনাজের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ করেন। এরপর কবির ফোনে স্ত্রী শাহনাজকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। এতে অভিমান করে শাহনাজ ঘরের দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে তার মেয়ের স্বামী বিভিন্ন সময় ফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতেন। ঘটনার দিনও মিথ্যা পরকীয়ার অভিযোগ শুনে মেয়েকে গালমন্দ করা হয়। এরপরই শাহনাজ এ ঘটনা ঘটান বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নিহতের মা।
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই আওলাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীর ভাগ্নি রিয়া ও তার শাশুড়িকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়।
এদিকে, হাসপাতাল থেকে শাহনাজ আক্তারের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। শাহনাজের আড়াই বছর বয়সি একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।


