স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশের মত চাঁদপুরেও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যদিও গতকাল বিকেল ৪টা থেকে দুই ঘণ্টা অঝরধারায় বৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্থি নেমে এসেছে জনজীবনে। এর আগে ভ্যাপসা গরম আর লোডশেডিংয়ে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। গত কয়েক দিনের টানা দাবদাহে অতিষ্ঠ চাঁদপুরের জনজীবন। তীব্র এই গরমের মধ্যেই বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। তাও আবার এক-দুদিন নয়, টানা কয়েকদিন ধরে এ অবস্থা চলছে। দিন-রাত মিলিয়ে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। এই সময়টা লোডশেডিংয়ে হাঁপিয়ে উঠছে জনজীবন।
এ নিয়ে চাঁদপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামে বিদ্যুৎ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গ্রাহকরা। অসহনীয় এই লোডশেডিংয়ের কবল থেকে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তার কোনো সদুত্তরও নেই কারো কাছে।
সাধারণ মানুষসহ সচেতন মহল বলছে, চলমান পরিস্থিতি একেবারে অসহনীয় পর্যায়ে ঠেকেছে। শুধু জীবনই অতিষ্ঠ নয়, এর প্রভাব ছোট-বড় কলকারখানা ও ব্যবসায় পড়তে শুরু করেছে।
এদিকে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে যোগ হওয়া প্রচণ্ড গরমে হাপিতাস করছে এলাকার মানুষ। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ, কলকারখানা।
অভিযোগ রয়েছে, লোডশেডিং হয়ে তা কখনো কখনো দুই থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও।
চাঁদপুরের পালের বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার গাজী বলেন, গত ১০ বছরে এভাবে কখনো বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করেনি। বিদ্যুৎ কখন যাবে আর কখন আসবে তাও বলা মুশকিল। প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ে জীবন শেষ। দোকানে বসে থাকাও সম্ভব হচ্ছে না। অসহ্য লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের অবস্থা নাজেহাল।
একই আক্ষেপ শহরের বিপনীবাগ বাজারের আরেক ব্যবসায়ী রায়হান বেপারীর। তিনি বলেন, লোডশেডিং আর প্রচণ্ড গরমে বাজারের অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ। জেনারেটর দিয়ে কতক্ষণ থাকা যায়। বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা এমনিতেই খারাপ তারউপর বিদ্যুৎ-এর এমন জ্বালাতনে অতিষ্ঠ আমরা।
গ্রাম পর্যায়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে লোডশেডিং। একবার বিদ্যুৎ গেলে আসতে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় নিচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজ, টিভি, ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। কোমলমতি শিশুসহ বয়স্ক লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও লোডশেডিং বিপর্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে এই বিদ্যুৎ সংকট শীঘ্রই সমাধান হবে বলে জানান তারা।


