স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের পুরান বাজারের পূর্ব শ্রীরামদীর চৌধুরী বাড়ি। এই বাড়িতেই ১৯২৮ সালে জন্ম নেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল প্রধান শিক্ষক হিসেবে। সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষকতার সেই পথ পেরিয়ে তিনি যুক্ত হন রাজনীতিতে। আর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার এক পর্যায়ে ১৯৮৬ সালে দায়িত্ব নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।
চাঁদপুরের এই সন্তান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রেখে গেছেন দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়। ১৯৫২ সালে ফেনী কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে তিনি শিক্ষকতা করেন। পরে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে ১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ১৯৭২ সালে তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আসে ১৯৮৬ সালে। ওই বছরের ৯ জুলাই তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন তাই চাঁদপুরের জন্যও এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা জড়িয়ে আছে পাকিস্তান আমলের রাজনীতি, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে।
২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। পরে চাঁদপুরের পুরান বাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
চাঁদপুরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিকের জীবনপথ—প্রধান শিক্ষক থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য, মন্ত্রী থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করে।


