সামীম হাসান:
ফরিদগঞ্জ পৌরসভা অফিসের চেক বই চিনিয়ে নিয়ে নিজের ইচ্ছামত টাকা উত্তোলন করতেন সাবেক মেয়রের কন্যা। এনিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারিদের অভিযোগ মেয়র কন্যার জিম্মায় চেক বই থাকায় সময়মত বেতন থেকে বঞ্চিত হতেন তারা। প্রতিবাদ করলে মারধর ও চাকরিচ্যুত হতে হতো। মারধরের শিকার হয়েছেন অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী পৌর মেয়রের দায়িত্ব গ্রহনের পরের বছর ২০২২ সালের আগস্ট মাসে অফিস থেকে সকল চেক বই চিনিয়ে নিয়ে যান অঘোষিত মেয়র খ্যাত মেয়র কন্যা নাজমুনন্নাহান অনি। নিজের ইচ্ছামত চেকের ব্যাবহার করে হাতিয়ে নিয়েছেন পৌরসভার কোটি কোটি টাকা। সেসময় তার পরিবারের ক্ষমতার দাপটে কেউ-ই প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখালে শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন । কোন যোক্তিক কারন ছাড়া কয়েকজনকে চাকরি থেকে অব্যহতি দিয়ে বাকিদের ধমিয়ে রেখেছেন।
পৌরসভার সকল কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে নিজের ইচ্ছামত টিসিবির কার্ড বিতরন করতেন তিনি, এই নিয়ে কয়েকবার কাউন্সিলররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। টিসিবির কার্ড তার কাছে থাকায় সাম্প্রতি সময়ে ব্যাহত হয়েছে টিসিবির পন্য বিতরন কার্যক্রম।
গত ৫ আগষ্ট দেশের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন হলে একে এক মূখ খুলতে শুরু করে ভুক্তভোগী অনেকে। ফরিদগঞ্জ পৌর ক্যাশিয়ার গিয়াসউদ্দিন ৪৮মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি অডিও বক্তব্যে এসব অনিয়ম দূর্নীতির তথ্য প্রকাশ করেছেন।
পৌর প্রশাসক শাহ সুফিয়ান মেয়র কন্যার চেক বই চিনিয়ে নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সেসময় আমরা ভয়ে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, কথা বলতে পারিনি। দীর্ঘদিন পৌরসভার চেক বই তার কাছে ছিল, ৫ই আগষ্টের পর পৌরসভার অফিস সহকারি দীনেশের মাধ্যমে চেক বই অফিসে প্রেরণ করেন।
চেক বই চিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নাজমুনন্নাহার অনির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হরেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।


