স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরে প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের খুঁটিতে শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে সরকারি বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলছে বিভিন্ন ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার। এতে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বিদ্যুৎ খুঁটিতে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ক্যাবল ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি কতটা কার্যকর-এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৫টার দিকে ফজরের নামাজের আগমুহূর্তে চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের গেটের সামনে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন পথচারী আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন।
খবর পেয়ে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আক্কাস আলী রেলওয়ে একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. গোফরান হোসেন ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সকালে হাঁটতে এবং ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ দেখতে পান, এসিল্যান্ড অফিসের সামনের বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন জ্বলছে। আগুনে বিভিন্ন তার পুড়ে ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ছিল। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি নিজ উদ্যোগে ওই সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
তিনি আরও জানান, ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে সংযোগ না পেয়ে সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। একই সঙ্গে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ঘটনাটি লাইভ করেন। বিষয়টি দেখে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চাঁদপুর শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে বিভিন্ন ক্যাবল নেটওয়ার্কের তার এলোমেলোভাবে ঝুলছে। অনেক স্থানে এসব তার সাধারণ পথচারীদের মাথায়ও লেগে যায়। আবার ভারী যানবাহন চলাচলের সময় অনেক তার ছিঁড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের খুঁটিতে শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটলে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বা জ্বলন্ত তার নিচে না পড়ে এসব ক্যাবল তারে পড়ছে। এতে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহনও মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তিনি এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য ক্যাবল নেটওয়ার্কের তারকে দায়ী করেন।


