চাঁদপুরে সংঘর্ষে নিহত আল আমিনের দাফন সম্পন্ন; মামলা প্রক্রিয়াধীন

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর :

 

চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত আল আমিনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে পুরান বাজার পৌর কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয় তাকে। অপরদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও থানায় মামলা হয়নি এখনো। তবে পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলাপকালে জানা যায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
বুধবার সকালে সরজমিনে পুরান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবার মুখে আলোচনার বিষয় মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনা। আলামিন নিহতের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে মারকাটিস রোড এলাকায়। নিহত আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনরা সবাই শোকে আচ্ছন্ন।
এসময় আল আমিনের মায়ের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সংঘর্ষের সময় আল আমিন ঘরে অবস্থান করছিল। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে তিনি তার ছেলেকে বাড়ির সামনে গেট বন্ধ করার কথা বলেন। গেট বন্ধ করতে গিয়ে ছেলে প্রথমে ইটের আঘাতে আহত হয়। তিনি দাবি করেন আহত অবস্থায় তার ছেলেকে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি পক্ষের লোকজন নির্মমভাবে হত্যা করে। এসময় তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে তিনি আরো জানান, উপজেলা নির্বাচনের সময় তার পুরো পরিবার আনারস প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী মাঝির ছেলের পক্ষে ভোট দিয়েছে। রাজনৈতিক কারণে তার স্বামী প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছিলেন। এতে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামীকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন সেই কারণেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত আল আমিনের বাবা পুরান বাজার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল মজিদ খান ডেঙ্গু ছেলে হত্যার বিষয়ে একই দাবি করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে মোহাম্মদ আলী মাঝি ও তার ছেলেরা তার ছেলেকে হত্যা করেছে। এসময় তিনিও তার ছেলে হত্যার বিচারের দাবি জানান।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ।
সংঘর্ষের ঘটনা বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আলামিন এর পোস্টমর্টেম সম্পন্ন হয়েছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারে আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আল আমিন খান (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ১২ জন আহত হয়। ১১ জুন মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুরানবাজার মেরকাটিস রোড ও নিতাইগঞ্জ রোডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন খান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ খান ডেঙ্গুর পুত্র। আলামিন খানের দুই সন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কিছুদিন পূর্বে পুরানবাজার মেরকাটিজ রোডের রনি নামে একটি কিশোরের সাথে নিতাইগঞ্জ রোডের জুয়েল নামের এক কিশোরের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মূলত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিতাইগঞ্জ রোডে যুবকদের সাথে ম্যারকাটিজ রোড এলাকার যুবকদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাতটা থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এতে দুই পক্ষ একে অপরকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রথমদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরানবাজার ফাঁড়ি পুলিশ ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে চাঁদপুর সদর সার্কেল ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।