সুমন আহমেদ
বিয়ের করেছেন একমাস। কিন্তুস্ত্রী ৭মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকের এমন তথ্যে আঁৎকে উঠেন যুবক। কোনো ভাবেই বিশ^াস করতে পারছেন যুবক। কিন্তু ঘটনা যখন সত্যি হলো মাথায় যেন বাজ পড়ার অবস্থা। পরে জানা গেলে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক নেতার নিয়মিত ধর্ষণের ফলে ৭মাসে অন্তঃসত্ত্ব হোন ওই কিশোরী। সে কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়।
এঘটনায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতামো.কাইয়ুম মাল (৩৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮) নামে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।বুধবার মতলব উত্তর থানা পুলিশ পশ্চিম হানিরপাড় গ্রাম থেকে তাদের আটক করে।
কাইয়ুম কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর কাইয়ুম, অপর অভিযুক্ত নারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা প্রতিবেদনে তিনি ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আপন বড় বোনই তার ছোট বোনের ওপর এ জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।


