দেশে ফিরলো দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জামালের লাশ ॥ দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মতলব উত্তরের ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামের প্রবাসী মো. জামাল হোসেনের (৩৫) মরদেহ নিজ গ্রামে এনে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর সিপাইকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের মরদেহ মঙ্গলবার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কফিন একনজর দেখতে অসংখ্য নারী-পুরুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমান জামাল হোসেন। সেখানে তিনি কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটি ভ্যারাইটি সুপারশপ গড়ে তোলেন এবং একজন কর্মচারী রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার সাউথ আফ্রিকার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জামাল তার দোকানে কর্মচারীকে নিয়ে কাজ করছিলেন। এ সময় একদল সন্ত্রাসী দোকানে এসে প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে জামালকে গুলি করে হত্যা করে দোকানের নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে একই গ্রামের জামালের সহযোগী ইলিয়াস ও মো. দুলাল প্রধান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় আহত দোকান কর্মচারী বর্তমানে সাউথ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সহযোগী মো. দুলাল প্রধান দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জামালের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরদিন সকালে তা নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়।
মৃত্যুকালে জামাল হোসেন স্ত্রী, তিন সন্তান, মা-বাবা, দুই ভাই, এক বোন, চাচা-চাচীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার তিন সন্তান বড় ছেলে বায়েজিদ (৮), মেয়ে সিনথিয়া (৩) এবং ছোট মেয়ে সামিরা আক্তার (২)। বাবাকে হারিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবার।

জানাজায় দোয়া ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সিপাইকান্দি বাইতুননুর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মো. আব্দুল হান্নান, ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ পাটোয়ারী এবং ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক একেএম গোলাম নবী খোকন। বক্তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, দেশটিতে প্রতিবছর সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় আড়াই থেকে তিনশ মানুষ প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জামালের দাফন ও কাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থও প্রদান করা হবে।