স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রামদাসেরবাগ আলিম মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ভবনের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণাধীন এই ভবনের কাজে নিয়মনীতি বা সিডিউলের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ঢালাই ও গাঁথুনিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু ও ইটের কণা। এছাড়া রডের সঠিক বন্ডিং এবং সিমেন্টের সঠিক অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আনোয়ার শেখ বাবলু বলেন, কাজের অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার বলা সত্ত্বেও ঠিকাদার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি নিজের খেয়ালখুশিমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভবন নির্মাণ তদারকি কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত নয়ন জানান, ঠিকাদার প্রতিনিয়ত অনিয়ম করে যাচ্ছেন, তাকে বারণ করলেও শুনছেন না। শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) হুজুর দায়িত্বে আছেন এবং তিনি ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ রাখেন। আমাকে কোনো কিছু জানানো হয় না, তবে আমি বারবার অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরছি।
মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) মো. মাইনুদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষ হুজুরের অনুপস্থিতিতে আমি বিষয়টি দেখাশোনা করি। কাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তিন ভাগের এক ভাগও শেষ হয়নি। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কাজে অনিয়ম চলছে, অভিযোগ জানিয়েও কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, নতুন ভবনটি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফসল। ভবন নির্মাণে কাজের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, সবতো আর শতভাগ করতে পারবে না, করাও সম্ভব না, যে সকল অনিয়ম হয়েছে, সে বিষয়ে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার কামরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাব ঠিকাদার মোহাম্মদ হোসেন জানান, আমি স্কয়ার ফুট হিসেবে কাজ নিয়েছি, কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না, যেভাবে কাজ ধরা আছে, সে ভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম জানান, জমাট বাঁধা বা শক্ত হয়ে যাওয়া সিমেন্ট কোনোভাবেই ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। পিলারের রড বাঁকা হলে প্রয়োজনে সেই পিলার ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করতে হবে, তবু কাজের মানে কোনো আপস করা হবে না। শিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে এবং প্রতিটি ধাপে কাজের মান নিজে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।


