স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুদারাঘাট বাজারের পশ্চিম পাশে সরকারি সম্পত্তির উপর ওই প্রভাবশালী মার্কেটের নির্মাণ কাজ গোপনে চলমান রেখেছে। ভবনের চারপাশের দেয়ালের কাজ শেষ করে বর্তমানে ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুদারাঘাট বাজারের পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবনের চারপাশের দেয়াল নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য বাঁশ ও কাঠের সাটারিংসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে একাধিকবার বাধা দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা নূর হোসেনকে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেছেন। এমনকি সরকারি লোকজন ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ রাখার কথা বললেও তিনি নির্মাণকাজ বন্ধ করেননি। তাদের অভিযোগ, কোনো এক অদৃশ্য প্রভাবের কারণে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুর জেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজমুদার বাদী হয়ে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নূর হোসেনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে সরাসরি ও মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
তার পক্ষে তার মামা এনাম পাটওয়ারী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতা করেই স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। সরকারি সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র পারেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁদপুর জেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। যেহেতু সরকারি সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, তাই তাদের কাজ না করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হয়নি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। যেহেতু বিষয়টি সরকারি সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই আদালতের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে উচ্ছেদের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।


