মতলবে অভিযানেও থামানো যাচ্ছে না অসাধু জেলেদের

স্টাফ রিপোর্টার

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা ও অবৈধ জাল জব্দের পরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন এক শ্রেণির জেলে। অভিযানে ব্যবহৃত ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় ধাওয়া করেও তাদের আটক করতে পারছে না প্রশাসন। ফলে অনেক সময় পরিত্যক্ত জাল জব্দ করেই ফিরতে হচ্ছে অভিযান পরিচালনা কারীদের।

বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার এখলাসপুর এলাকায় নদীতে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে মৎস্য বিভাগের কর্মীরা সেই জাল জব্দ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক হাওলাদার বলেন, প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা হালকা ও শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেশি।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৪ টা অভিযান ও ৫ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অনেক জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ টি নৌকা, দেড় লক্ষাধিক মিটার অবৈধ জাল এবং ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়ছে ও জাল প্রকাশ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি কিছু মৌসুমি জেলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারী কম থাকায় তারা এ সুযোগ নিচ্ছেন। এতে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক জেলে। এতে তারা আর্থিক সংকটে ভুগছেন। সরকারি খাদ্যসহায়তা পেলেও তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন বলে জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, জনবল সংকট, বাজেট স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জেলেদের দ্রুতগতির নৌকার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো নৌযান ও পর্যাপ্ত জনবল ছাড়া অভিযান পুরোপুরি সফল করা কঠিন। মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞার বাকি দিনগুলোতে নদীতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।