মো. জামাল হোসেন:
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে চলমান বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হচ্ছে। রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়িসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য ভেসে উঠছে। এখনো সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পায়নি শাহরাস্তিবাসী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। গত দুদিনের বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো থেকে কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গেলেও অনেকেই এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করতে দেখা গেছে। যেসব পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরেছে তাদের নানা দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখা হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনগুলোর ত্রাণ তৎপরতা কমে এসেছে। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে মৎস্য ও কৃষি অধিদপ্তর থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বন্যায় শাহরাস্তি উপজেলায় সবচেয়ে
বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য খামারিরা। মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১২৫ কোটি টাকা। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর-দিঘী ও খামারের সংখ্যা ৫ হাজার ৫০০টি। উপজেলা মৎস্য অফিসার তৌসিবer উদ্দিন জানান, এখনো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিয়ে অনেকেই আবেদন করছেন। এ তালিকা
আরও বাড়তে পারে। এদিকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চূড়ান্ত করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আয়শা আক্তার জানান, বন্যায় কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। ৩ হাজার ৮৫৫ জন কৃষক এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বন্যায় উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ নলকূপ অকেজো হয়ে গেছে এছাড়াও ১ হাজার ২০০ শৌচাগার নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ১৮ কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও উপজেলার গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে এখনো তালিকা চূড়ান্ত্ম করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।


