হাইমচরে কবরের উপর স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

‎হাইমচর উপজেলার মহজমপুর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে একটি গণকবরস্থান দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলোনিবাসী সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করে কবরস্থান সংরক্ষণের দাবিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
‎কলোনিবাসীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা সার্ভেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে সরকারি জমিতে কবরের ওপর দোকান নির্মাণের সত্যতা পান। তবে দখলকারী তাজু মাল জমিটি নিজের দাবি করে কাগজপত্র দেখাতে দুই দিনের সময় নেন। দীর্ঘ ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
‎এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সার্ভেয়ারের নির্দেশনা অমান্য করে তিনি উল্টো কলোনিবাসীদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছেন। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
‎সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৫৮ নং মহজমপুর মৌজার বিএস ২৬ নং খতিয়ানের জমিতে পাকিস্তান আমলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের নামে ১.৪০ একর ভূমি আরপিজিও হিসেবে ৩০টি ভূমিহীন পরিবারকে বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে চারটি পরিবার স্বচ্ছল হয়ে অন্যত্র চলে গেলে প্রায় ১৫ শতাংশ জমি খালি থাকে।

‎কলোনিতে বসবাসরত কয়েকজন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে ওই খালি জায়গার একাংশে তাদের দাফন করা হয়। ২০২০ সালে জায়গাটিকে গণকবরস্থান হিসেবে সংরক্ষণের জন্য কলোনিবাসীরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
‎অভিযোগ অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী এলাকার তাজুল ইসলাম মাল ওই কবরস্থান দখল করে সেখানে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি গাছপালা কেটে নিয়ে যান এবং চারটি কবর নিশ্চিহ্ন করে পুরো জমি জবরদখল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‎‎কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি জায়গায় তাদের পিতা-মাতাকে দাফন করা হয়েছে। সেই কবরের ওপর দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। তারা সরকারি উদ্যোগে কবরস্থান পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
‎এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম মালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, সার্ভেয়ারকে তিনি বলেন, আমার নিজস্ব যায়গায় আমি দোকান করেছি, যায়গার কাগজপত্র সঠিক আছে।
‎হাইমচর উপজেলা সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কাগজপত্রসহ অফিসে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। বিষয়টি পুনরায় পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।