পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা সুমন গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী এলাকায় সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে বৃদ্ধ আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী (৬৫) হত্যার ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি ছাত্রদল নেতা মো. সুমন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৪ জুন) রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ থানার ঝিগাতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৫ জুন) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক।

পুলিশ জানায়, ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিকের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. সাকিব হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি সুমন পাটোয়ারীকে রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এবং নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার সুমন পাটোয়ারী মতলব পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মুন্সিরহাট বাজারে দোকান দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমন পাটোয়ারীর মা ও স্ত্রীকে গত ৪ জুন গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর ঝিগাতলা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সুমন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে বিকেলে দক্ষিণ দিঘলদী গ্রামের সিডু পাটোয়ারীর ছেলে আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীর ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হারুন পাটওয়ারী বাড়ির সামনে নিজ জায়গায় একটি গাছ রোপণ করেন। পরে ওই গাছ উপড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, খবর পেয়ে সুমন পাটোয়ারী দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে হারুন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীকে মারধর করেন। পরে আব্দুল মান্নান পাটোয়ারীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ জুন তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।