অপ-সাংবাদিকতা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ॥ ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পরিচালনা করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে অনেকেই যাচাই-বাছাই ছাড়া নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করছেন। একই সাথে ফেসবুকনির্ভর সাংবাদিকতাও বেড়েছে। তথ্য সমৃদ্ধ না হওয়ায় ভুল সংবাদে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ক্ষতি করে। আপনারা আমাদের রোল মডেল, তাই অপসাংবাদিকতা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত বেশ কিছু সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। এছাড়া নিষ্ক্রিয় থাকা জেলা প্রশাসনের ‘মিডিয়া সেল’ দ্রুত সচল করা, প্রেসক্লাবের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সামগ্রী প্রদান এবং সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট তথ্য সাপেক্ষে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি রয়েছে এবং ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে খালের মুখ বন্ধ করে পুলিশ পাহারা নিশ্চিত করা হবে। চাঁদপুরের সৌন্দর্য বর্ধনে নজরুল পার্ক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত জমিতে তিনটি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সাথে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ লেখা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন।

সভায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে জেলার সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের ঝুঁকি নিতে হয়। সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ, তাই এই পেশা এবং প্রেস ক্লাবের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তিনি হলুদ সাংবাদিকতা রোধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন।

সভায় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে ৪ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো হলো :
১. সাংবাদিকদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য জমি বরাদ্দ। ২. অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। ৩.পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে সহযোগিতা করা। ৪. চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের জন্য আসবাবপত্র ও কম্পিউটার সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া।

সভার শুরুতে পরিচয় পর্ব শেষে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে সংবাদ সংগ্রহ শেষে দেশে ফিরে আসায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশাকে জেলা প্রশাসন ও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

সভায় বাবুরহাট এলাকায় পৌরসভার নাম ভাঙিয়ে গণপরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিগোচর করেন সাংবাদিকরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন নবাগত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, বিএম হান্নান, গিয়াসউদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, সিনিয়র সদস্য মুনির চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহিন, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশ, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক তালহা জোবায়ের, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কে এম সালাউদ্দিন, দৈনিক চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম মাসুদ, একাত্তর টিভির নিজস্ব প্রতিবেদক আল আমিন ভূঁইয়া, দৈনিক নয়া প্রভাতের নির্বাহী সম্পাদক এ এইচ এম নিজাম, নাগরিক টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি রানা রহমান এবং চাঁদপুর কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন।সভায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কর্মকর্তা, বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকের প্রতিনিধি এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।