ফারাবী খান:
স্বাস্থ কেন্দ্রে চাকরি করেন, কিন্তু সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন না, অথচ নিয়মিত বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছেন, এমন ঘটনা এক মাস কিংবা দুই মাস নয়, মাসকে মাসক ধরে রোগীদের সেবা না দিয়েই এমন সুবিধা ভোগ করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। হাজিরা বইতেও নেই কোন স্বাক্ষর। বলছিলাম ফরিদগঞ্জ উপজেলা ৮ নং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) মোঃ নূর হোসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউট করার অজুহাতে নিজ কর্মস্থলে ডিউটি করছেন না। অথচ ২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাসে ৩/৪ দিন অফিস করেন, এবং পহেলা আগস্ট থেকে একদিনের জন্য অফিসে আসেন নাই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার নুর হোসেনের অফিস রুমের দরজা বন্ধ এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিটি কক্ষে দুলাবালি ও ময়লা আবর্জনা ভরপুর, দেখলে মনে হবে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্ধ, ডাক্তারের চেম্বারে কেউ প্রবেশ করছে না।
গত ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে কয়েকজন রোগী বসে আছে সেবার জন্য, কিন্তু ডাক্তার নাই সেবা দেওয়ার। রোগীরা বলছেন, গত ১লা আগস্টের পর থেকে ডাক্তার দেখা পায়না, অবসর প্রাপ্ত একজন পিয়ন (মিজান) প্রাথমিক কিছু চিকিৎসার ঔষধ দিয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন মিজান বলেন, ডাক্তার দুই তিন মাস আসে না, রোগী আসলে বলতে হয় কাল আসবে ডাক্তার, প্রতিনিধি এভাবেই মিথ্যা কথা বলতে হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ মিয়াজিসহ কয়েকজন বলেন, প্রায় গত ৩ মাস ধরে ডাক্তার দেখা যায়নি, প্রতিদিনই রোগীরা এসে ভিড় করে। আমাদের দু-তিনটা ইউনিয়ন মিলে এই একটি মাত্র উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, আমাদের ইউনিয়ন ব্যতীত অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রতিদিনই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী আসেন, কিন্তু ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায় না। এখানে জরুরী একজন এমবিবিএস ডাক্তার প্রয়োজন, এবিষয়টা আশা করি সরকার জরুরী ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী নুর হোসেনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে, তিনি এই বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলবেন না।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ অনুপস্থিত তা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্তে সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


