স্টাফ রির্পোটার:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি আলমগীর হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১, সিপিসি-২।
শনিবার (২৭ জুন) ভোর ৩টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এবং র্যাব-১৩-এর একটি যৌথ বিশেষ আভিযানিক দল কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানার শিবেরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, গত ২৫ জুন বিকেলে কচুয়া উপজেলার ২ নম্বর পাথৈর ইউনিয়নের হাটমোড়া (প্রধানীয়া বাড়ি) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মরিয়ম বেগমের (৩২) সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর আগে আলমগীর হোসেনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আলমগীর হোসেন তার চাচাতো ভাই প্রবাসে থাকার সুযোগে ওই ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। এর জেরে আলমগীর প্রায়ই মরিয়মকে মারধর করতেন।
র্যাবের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন পরকীয়ার বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আলমগীর হোসেন তার স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর করেন। এতে মরিয়ম গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠালে পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ২৬ জুন কচুয়া থানায় আলমগীর হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কচুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১১, সিপিসি-২-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


