ইসহাক ইসলাম জায়ান
মতলব উপজেলার দশআনী এলাকায় খাঁটি দুধের মাঠা এখন একটি জনপ্রিয় নাম। প্রচণ্ড গরমে প্রশান্তির খোঁজে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ ছুটে আসেন হাবিব উল্লাহর দোকানে। খাঁটি দুধ, লবণ, চিনি ও লেবুর রসের নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এই মাঠা স্বাদ ও মানের কারণে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।
জানা যায়, বর্তমানে প্রতিকেজি মাঠা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার মণ দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করা হয়। সকাল থেকেই দোকানে ভিড় করেন নানা বয়সী ক্রেতারা। অনেকেই পরিবার-পরিজন কিংবা অতিথিদের জন্য মাঠা কিনে নিয়ে যান।
হাবিব উল্লাহ জানান, ২০১৮ সালে মাত্র ১০ কেজি দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন তিনি। শুরুতে বিক্রি কম হলেও ধীরে ধীরে খাঁটি মান বজায় রাখার কারণে মানুষের আস্থা তৈরি হয়। বর্তমানে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ মাঠা বিক্রি হচ্ছে।
দোকানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, মাঠা তৈরিতে কোনো ধরনের ভেজাল ব্যবহার করা হয় না। মানসম্মত দুধ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়েই প্রতিদিন মাঠা প্রস্তুত করা হয়। এ কারণেই এর স্বাদ অন্যদের তুলনায় আলাদা এবং ক্রেতারাও নিশ্চিন্তে এটি পান করেন।
হাবিব উল্লাহর জীবনের গল্পও সংগ্রামের। পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাবা হাসু ছৈয়ালের মৃত্যু হলে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে বাধ্য হন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয়। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শুধু নিজের পরিবারই নয়, চার বোনের বিয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। পাশাপাশি ছোট ভাইকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করেছেন। বর্তমানে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সুখের সংসার।
স্থানীয়দের মতে, হাবিব উল্লাহর এই উদ্যোগ শুধু একটি সফল ব্যবসার উদাহরণ নয়, বরং সততা, পরিশ্রম এবং মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার মাঠা এখন মতলবের একটি পরিচিত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
খাঁটি উপকরণ, মানের প্রতি আপসহীনতা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এই তিনের সমন্বয়ে হাবিব উল্লাহর মাঠা আজ জেলার গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠেছে। গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা মাঠার স্বাদ নিতে তাই প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার দোকানে।


