স্টাফ রির্পোটার:
চাঁদপুরে দত্তক দেওয়া সেই শিশু লামহা অবশেষে ফিরলো মায়ের কোলে। চাঁদপুর শহরে ‘মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সন্তান হারানোর’ নাটকিয়তার অবসান ঘটেছে। অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এবার শিশুটির মা শিউলি বেগম দাবি করেছেন, স্বামীর পরামর্শেই তিনি সন্তানকে অন্যের কাছে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্যদিকে শিশুটির নানী পারুল বেগম জানিয়েছেন, আদালতের মাধ্যমে দত্তক দেওয়া শিশুটিকে শনিবার রাতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দত্তক নেওয়া দম্পতির কাছ থেকে পাওয়া টাকা দত্তক নেয়া দম্পতিকে ফেরত দেয়া হয়েছে।
চাঁদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর ভাঙ্গা পোল এলাকার বাসিন্দা শিউলি বেগমের ৬ মাস বয়সী শিশু লামহাকে শহরের জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী কামরুল ইসলাম দম্পতি আদালতের মাধ্যমে দত্তক নেন বলে জানা গেছে।তবে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার বিষয়ে নতুন অভিযোগ তুলে শিউলি বেগম বলেন, তার স্বামী লিটন খান ঠিকমতো কাজ করেন না এবং বিভিন্ন ধরনের নেশায় জড়িত। সংসারের আর্থিক সংকট ও ঋনগ্রস্তের কারণে স্বামীই তাকে সন্তানকে অন্যের কাছে দিয়ে টাকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে শিউলি বেগমের এ অভিযোগের বিষয়ে তার স্বামী লিটন খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।
এদিকে শিউলি বেগমের মা পারুল বেগম জানান, শনিবার রাতে তার নাতনি লামহাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা আমাদের ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিল। আমরা তাদের ৩৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। পরে আমার নাতনিকে নিয়ে এসেছি।শিশুটিকে কী প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে দত্তক দেওয়া হয়েছিল এবং পরে কীভাবে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় চাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার শিশুটির মা থানায় এসে তার সন্তানকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশের একটি দল বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। একপর্যায়ে শিশুটির মা স্বীকার করেন, তার সন্তানকে জেসমিন আক্তার ও কামরুল ইসলাম দম্পতি আদালতের মাধ্যমে দত্তক নিয়েছেন।ঘটনার শুরুতে শিশুটিকে মলম পার্টির সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে দত্তক দেওয়ার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


