কারিগরি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে আইএমটির পথনাটক ‘সনদের ওজন-দক্ষতার জোর’ মঞ্চায়ন

স্টাফ রির্পোটার:

“শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই, দেশ গঠনে কারিগরি শিক্ষা চাই। শুধু সনদ নয়, চাই প্রকৃত শিক্ষা; দক্ষতা অর্জনই হোক যুবসমাজের দীক্ষা। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে চাঁদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ হিসেবে পথনাটক ‘সনদের ওজন-দক্ষতার জোর’ মঞ্চায়ন করেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) চাঁদপুর পর্যটনকেন্দ্র ত্রিনদীর মোহনা ও ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ পথনাটক প্রদর্শন করা হয়। নাটকের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণি ও এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

নাটক মঞ্চায়নের আগে বক্তব্য দেন চাঁদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। হাতে একটি কারিগরি দক্ষতা থাকলে দেশে কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় এবং বেকারত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণি ও এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা শিপ পাইপিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (ইন্ডাস্ট্রিয়াল), মেশিন শপ প্র্যাকটিসসহ বিভিন্ন ট্রেডে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া অনগ্রসর, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত, ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং নারীদের ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনভুক্ত নাট্যসংগঠন অনন্যা নাট্য গোষ্ঠীর সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, সচেতনতামূলক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পথনাটক অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে আইএমটির এ উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।

পরে কবি ও নাট্যকার জসীম মেহেদীর রচনা এবং মো. আলমগীর হোসেন পাটওয়ারীর নির্দেশনায় পথনাটক ‘সনদের ওজন-দক্ষতার জোর’ মঞ্চস্থ হয়। নাটকে অভিনয় করেন মানিক দাস, মুহাম্মদ আলমগীর, বিরেন সাহা, জসীম মেহেদী, ফাতেমাতুজ জোহরা, প্রান্তিক দাস ও শাহরিয়ার আবির।

পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে নাটকটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত দর্শকরা নাটকের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব এবং কর্মমুখী শিক্ষার ইতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পান।