স্টাফ রিপোর্টার
ঘড়ির কাঁটায় তখন পাঁচটা ছুঁই ছুঁই। পূর্ব আকাশে সূর্যের আলো কেবল মিটিমিটি করে জ্বলতে শুরু করেছে। চারিদিকে সুনসান নীরবতা ভেঙে একে একে জড়ো হতে শুরু করেছে সিএনজি-অটো এবং মিনি ট্রাক। ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিখ্যাত মাছের পাইকারি বাজার ‘ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা মৎস্য আড়তে’ শুরু হচ্ছে দিনের কর্মযজ্ঞ।
উপজেলার আশপাশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মৎষ্য চাষি ও তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের কষ্টার্জিত মাছ বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসেন। একদিকে চলে বিক্রেতাদের হাঁক-ডাক অন্যদিকে গ্রামের হাটবাজার থেকে আসা পাইকারদের চলে দরদাম। সব মিলিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই জমে ওঠে কেনাবেচার মহোৎসব।
আড়তে মাছ আসার পরই শুরু হয় মূল আকর্ষণ ‘নিলামের’। যা-কিনা স্থানীয় ভাষায় ‘ডাক’ হিসেবেই পরিচিত। খোলা বাজারে দরদামে সর্বচ্চো মূল্য হাঁকানো পাইকারের হাতেই তুলে দেয়া হয় মাছের মালিকানা।
ফরিদগঞ্জের তরুণ মৎস্য উদ্যোক্তা মি. সনজিব মিত্র আড়তের এক কোনে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন নিলাম। তিনি বাজারে নিয়ে এসেছেন প্রায় ১০ মন তেলাপিয়া ও ব্রিগেড মাছ। উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিঃমিঃ দূরত্বের পথ পাড়ি দিয়ে মাছ বিক্রির জন্য আড়তে এসেছেন। তিনি বলেন, আগে চাঁদপুরের আড়তে মাছ নিয়ে যেতাম। কিন্তু সেটা সময়সাপেক্ষ এবং পরিবহন খরচও বেশী পরতো। পরে চিন্তা করলাম কাছাকাছির মধ্যে এই আড়তটি যেহেতু রয়েছে সুতরাং সেখানেই নিয়ে যাই। ন্যায্যতার সাথে মাছ বিক্রি করে আড়তদারদের নির্দিষ্ট কমিশন এবং মৎস্য আহরণে সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেই।
স্থানীয় এজেন্ট এর একজন প্রতিনিধি মি. বাবুল চন্দ্র দাস, তিনি বলেন, প্রতিদিন ভোরে এখানে কয়েক লাখ টাকার মাছ হাত বদল হয়। গ্রামীণ অর্থনীতির গতি চাঙ্গা রাখতে আড়তটি বেশ বড় ভূমিকা পালন করছে।
গত তিন দশক ধরে মৎস্য ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সেনু গাজী বলেন, এখানে চাষের তেলাপিয়া, পাঙাস, রুই, কাতল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সমাগম ঘটে। এই আড়তকে কেন্দ্র করে নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সমাগম ঘটে স্থানটিতে।
স্থানীয় অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি আড়ত কেবল মাছ বিক্রির স্থান নয়, এটি শত শত মানুষের জীবিকা নির্বাহের ঠিকানা। নদী-নালা, খাল-বিল থেকে মাছ ধরা জেলে, পরিবহন শ্রমিক, এজেন্ট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা-সবাইকে এক সুঁতোয় বেঁধেছে ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তার এই মৎস্য আড়ত। তাই বলাই বাহুল্য যে, এটি ফরিদগঞ্জের গ্রামীণ অর্থনীতির আসল আঁতুড়ঘর।


