স্টাফ রিপোর্টার
বাস ভাড়া বৃদ্ধির একদিন পরই বাড়ল যাত্রীবাহী লঞ্চ ভাড়া। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যায় নৌ পথেও ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সড়ক ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আর এই ঘোষণায় চাঁদপুর থেকে ঢাকার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া জনপ্রতি অন্তত ২০ টাকা বাড়বে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ভাড়া বাড়ার খবরে যাত্রীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢাকার চাকরিজীবী যাত্রী জয়নাল খান বলেন, আমি নিয়মিত ঢাকা থেকে চাঁদপুরে যাতায়াত করি। বেতন তো বাড়ছে না, কিন্তু বাসা ভাড়া, বাজার খরচের সঙ্গে এখন যাতায়াত খরচও বাড়ছে। মাসে কয়েকবার আসা-যাওয়া করলে বাড়তি টাকার চাপটা আমাদের মতো চাকরিজীবীদের ওপরই বেশি পড়বে।
অপর এক যাত্রী বলেন, লঞ্চে যাতায়াত করি কম খরচে বলে। এখন যদি ভাড়া বাড়তে থাকে, তাহলে আমাদের জন্য ঢাকা যাওয়া-আসাই কঠিন হয়ে যাবে। সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়েনি।
শিক্ষার্থী নিজুম আহমেদ বলেন, পড়াশোনার কারণে নিয়মিত ঢাকা যেতে হয়। অল্প অল্প করে ভাড়া বাড়লেও মাস শেষে সেটা অনেক টাকা হয়ে যায়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি দেখা দরকার।
ব্যবসায়ী ফাহিম গাজী বলেন, চাঁদপুর থেকে ঢাকায় নিয়মিত পণ্য ও ব্যবসার কাজে যাতায়াত করতে হয়। যাত্রী ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ব্যবসা ও পণ্যের দামের ওপর পড়তে পারে।
ভাড়া বাড়ানোর কারণ জানিয়ে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধিসহ সবকিছু বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ৩২ টাকা ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দিইনি।
এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। তারা একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তারা প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান দুই টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ৫২ পয়সার স্থলে ৪ টাকা দুই পয়সা করার কথা বলেছে। অন্যথায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।


