স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান মারা গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান শনিকার (২৪ অক্টোব) দুপুর দুইটার দিকে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।
সাংবাদিক শফিকুর রহমানের জানাজা পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (২৪ অক্টোবর) রাত বাদ এশা গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে (রোড নম্বর ৬৩, গুলশান-২) অনুষ্ঠিত হবে।
তার একমাত্র মেয়ে আমেরিকা থেকে ঢাকায় পৌঁছালে দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার ইচ্ছা অনুযায়ী সোমবার তার গ্রামের বাড়ি ফরিদগঞ্জের কৃষ্ণপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হইবে।
উল্লেখ্য, মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।


