এক ভূমিতে তিন সিদ্ধান্ত সাবেক এসিল্যান্ডের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একই জমি নিয়ে তিন দফায় তিন ধরনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সদ্য সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হোসেন। প্রথমে রোকেয়া বেগমের নামে নামজারি অনুমোদন, পরে আপত্তির শুনানি নিয়ে তা বাতিল এরপর সেই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা চলমান থাকতেই একই জমি প্রতিপক্ষ জামাল খানের নামে নতুন করে নামজারি অনুমোদন। এতোটুকুতে থামলেও পারতেন, কিন্তু না তিনি থামলেন না। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সংশ্লিষ্ট নোটিশ ও নথি তলবের মাত্র দুই দিন পরই দেয়া হয় নতুন নামজারির অনুমোদন। ধারাবাহিক এসব সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে একই জমি নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জাহিদ হোসেনের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রথমে রোকেয়া বেগমের নামে নামজারি অনুমোদন দেয়া হয় তৎকালীন এসিল্যান্ড জাহিদ হোসেনের দপ্তর থেকে। পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষ জামাল খান ওই নামজারির বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। এরপর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রোকেয়া বেগমের নামে দেয়া আগের নামজারি বাতিল করেন সাবেক এসিল্যান্ড জাহিদ হোসেন।

ওই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে রোকেয়া বেগমের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৬ সালের ১ জুন দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৯/২০২৬। অর্থাৎ, আগের নামজারি বাতিলের সিদ্ধান্তটি তখন রাজস্ব আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট আদালত সংশ্লিষ্ট নোটিশ ও নথি তলব করেন। এর মাত্র দুই দিন পর, ১৩ আগস্ট একই জমিতে জামাল খানের নামে নতুন নামজারি অনুমোদন দেয়া হয়। নতুন নামজারি মামলার নম্বর ২০৩২ এবং খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০১৬। জমিটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা মৌজার ৯৫ নম্বর জেএলভুক্ত ৬৬০ ও ৬৬২ দাগে অবস্থিত। জমির পরিমাণ ১০ শতাংশ। রিভিশন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ নভেম্বর ২০২৬।

রোকেয়া বেগমের পক্ষের অভিযোগ, জামাল খানের নামে নতুন নামজারি অনুমোদনের আগে তাদের যথাযথ নোটিশ দেয়া হয়নি। নোটিশ দেয়া হলে তারা আপত্তি জানিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেতেন বলে দাবি তাদের।

একই জমিতে প্রথমে নামজারি অনুমোদন, পরে তা বাতিল এবং এরপর প্রতিপক্ষের নামে নতুন করে নামজারি অনুমোদনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে কী যুক্তি ও নথি ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিভিশন মামলা চলমান থাকার বিষয়টি নতুন নামজারির ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিশ দেয়া ও শুনানির সুযোগ রাখা হয়েছিল কি না এবং নতুন অনুমোদনের ভিত্তি কী ছিল এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাবেক কয়েকজন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তহশিলদারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিরোধপূর্ণ জমির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত ওই জমির নামজারি অনুমোদন দেয়া থেকে বিরত থাকাই বাঞ্চনীয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা থাকুক বা না থাকুক, এমন পরিস্থিতিতে নামজারি অনুমোদন না দেয়াটা প্রশাসনিক চর্চার অংশ।

চাঁদপুর ল’ কলেজের শিক্ষক ও আইনজীবী শেখ সাদী বলেন, সাধারণত উচ্চ আদালতে কোনো মামলা চলমান থাকলে নিম্ন আদালতে ওই বিষয়ে কার্যক্রম বন্ধ থাকা স্বাভাবিক। এর ব্যত্যয় ঘটলে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘মামলা চলমান থাকলেই নতুন খারিজের অনুমোদন দেয়া যাবে না এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাধারণত এ ধরনের বিষয় আমরা স্থগিত রাখি বা এড়িয়ে চলি।

সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হোসেন বদলি হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, এমনটি হওয়ার কথা না। তবে আসলে কী হয়েছে, আমাকে ডকুমেন্টগুলো দেন। আমি দেখে জানাব।