মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আড়াই বছর বন্ধ অপারেশন

স্টাফ রিপোর্টার

হাসপাতাল আছে, অস্ত্রোপচারের কক্ষও আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে প্রসূতিসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার। শুধু অস্ত্রোপচারই নয়, প্রায় এক বছর আট মাস ধরে বন্ধ এক্স-রে সেবা। এক মাস ধরে হচ্ছে না আলট্রাসনোগ্রাফিও। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অথবা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে রোগীদের।

৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে বহিঃ র্বিভাগে চিকিৎসা নেন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী। ভর্তি থাকেন ৩০ থেকে ৩৫ জন। অথচ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা গুলো। বিশেষ করে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাদের স্বজনেরা।

উপজেলার ভূইয়া কান্দি গ্রামের এক গৃহবধূ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এর এক মাস আগেও তিনি প্রসূতি অস্ত্রোপচারের জন্য এই হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোগী বলেন, পরে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করিয়েছি। অনেক ভোগান্তিও হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল থাকতেও প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে হয়। এমন হাসপাতাল না থাকাই ভালো?

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী জানান, প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের জন্য প্রসূতিরা হাসপাতালে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের ফিরে যেতে হয়। তাদের হিসাবে, প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ জন প্রসূতি সরকারি খরচে অস্ত্রোপচারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের ৩৫টি পদের মধ্যে ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে। দুজন চিকিৎসক প্রেষণে অন্য হাসপাতালে কর্মরত। সব মিলিয়ে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১৭ জন।

প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রসূতি) পদটি প্রায় আড়াই বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এ পদে কর্মরত তাসলিমা আফরোজ ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রেষণে ঢাকার একটি হাসপাতালে বদলি হন। একই সময় ধরে শূন্য রয়েছে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) পদটিও। সর্বশেষ এ পদে কর্মরত মো. ইফতেখার শামীম ২০২৪ সালের ১৯ মে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) পদটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে।

প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রসূতিসহ সব ধরনের বড় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে । ফলে সরকারি হাসপাতালে স্বল্প খরচে সন্তান জন্মদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলায় বসবাস কারি নারীরা।
শুধু অস্ত্রোপচার নয়, রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোও বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি প্রায় এক বছর আট মাস ধরে শূন্য। সর্বশেষ এ পদে কর্মরত ব্যক্তি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে কার্যক্রম। অন্যদিকে, আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট থাকায় প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এ সেবাও।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজন কুমার দাস বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। ভর্তি থাকেন ৩০ থেকে ৩৫ জন। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকটে চিকিৎসাসেবা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শূন্য পদে লোক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।