স্টাফ রিপোর্টার
শাহরাস্তি পৌরসভার মেহারকালিবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত উচ্ছেদের পরও আবারও দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। প্রশাসনের একাধিক উচ্ছেদ অভিযান ও নোটিশের পরও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ দখলদারিত্ব। অভিযান শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই একই জায়গায় পুনরায় বসানো হচ্ছে দোকানপাট। এতে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।
জানা যায়, মেহারকালিবাড়ি মাঠের পূর্ব পাশের সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রথমে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিনের জন্য স্বাভাবিক হয় পথচারীদের চলাচল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে বসানো হয় দোকানপাট।
পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেনও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। তবে প্রশাসনের একাধিক উদ্যোগের পরও দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি। বরং উচ্ছেদের পর একই জায়গায় আবারও দোকানপাট বসিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে মাঠের একাংশ ও ফুটপাত।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটপাতের বড় একটি অংশ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনার দখলে রয়েছে। পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত ড্রেনের ওপরও বিভিন্ন হোটেল মালিক স্থায়ীভাবে চুলা স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি দোকানিরা ফুটপাত ও চলাচলের জায়গায় মালামাল রাখায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে পথচারীদের চলাচলের সুযোগ।
অন্যদিকে, উপজেলার ঠাকুর বাজার এলাকাতেও দিনের বেলায় মালামাল লোড-আনলোড করায় প্রায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দোকানগুলোর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রধান সড়কের ওপরই মালামাল ওঠানামার কাজ করা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফুটপাত দখলে থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কার্যকরভাবে দখলমুক্ত করা এবং যানজট নিরসন করা সম্ভব হয়নি। অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই দখলদাররা আবারও আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উচ্ছেদের পর জায়গাগুলো পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি পৌরসভার প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, ফুটপাত অবৈধ দখলসহ কয়েকটি বিষয়ে কয়েকজন পৌর প্রশাসকের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। এসব বিষয়ে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।


