ফরিদগঞ্জে একই জমিতে তিন সিদ্ধান্ত সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে জেলা প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার

ফরিদগঞ্জে একই জমির নামজারি নিয়ে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. আর. এম. জাহিদ হোসেনের দেয়া তিন দফা সিদ্ধান্তের ঘটনায় তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

গত ২৫ অক্টোবর দৈনিক শপথ পত্রিকায় ‘এক ভূমিতে তিন সিদ্ধান্ত, সাবেক এসিল্যান্ডের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ব’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা মৌজার একই জমি নিয়ে রোকেয়া বেগম ও জামাল খানের নামজারি সংক্রান্ত ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত, রিভিশন মামলা চলমান থাকা অবস্থায় নতুন নামজারি অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। ফলে একই জমির নামজারি নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর যৌক্তিকতা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আসছে।

উল্লেখ্য, বিরোধপূর্ণ জমিটিতে প্রথমে রোকেয়া বেগমের নামে নামজারি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে জামাল খানের আপত্তির শুনানি নিয়ে সেই নামজারি বাতিল করেন তৎকালীন এসিল্যান্ড জাহিদ হোসেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ১ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদালতে ১৯/২০২৬ নম্বর রিভিশন মামলা করেন রোকেয়া বেগম।

মামলার নথি তলবের জন্য ১১ আগস্ট আদালত সংশ্লিষ্ট নোটিশ দেন। এর মাত্র দুই দিন পর, ১৩ আগস্ট একই জমি জামাল খানের নামে নতুন করে নামজারি অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন নামজারি মামলার নম্বর ২০৩২ এবং খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০১৬। জমিটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা মৌজার ৯৫ নম্বর জেএলভুক্ত ৬৬০ ও ৬৬২ দাগে অবস্থিত, যার মোট পরিমাণ ১০ শতাংশ।

রোকেয়া বেগমের পক্ষের অভিযোগ, নতুন নামজারির আগে তাদের যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, উপজেলা ভূমি প্রশাসনের বর্তমান কর্মকর্তার বক্তব্য, রিভিশন মামলা চলমান থাকলেই নতুন নামজারি অনুমোদনে আইনগত বাধা রয়েছে—এমন নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাধারণত এ ধরনের বিষয় হোল্ডে রাখা হয়।

এখন জেলা প্রশাসনের তদন্তে একই জমিতে ধারাবাহিক তিনটি সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ, নামজারি অনুমোদনের সময় রিভিশন মামলার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যথাযথ শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।