স্টাফ রিপোর্টার
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র ড. সামছুল হক মডেল কলেজে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পাস করতে পারেনি কেউ। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে এই কলেজ থেকে ১০ জন পরিক্ষার্থী এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে। ২০২৫ সালে ৪ জন পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১ জন। কলেজটি উপজেলার বহরী গ্রামে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে এইচএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে।
এ বছর পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে দুইজন পরীক্ষার্থী। দুই বছর লেখাপড়া করে এ দুজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হতে পারায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে হতাশ এলাকাবাসী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৮ টি কলেজ থেকে মোট ৯১৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ৩২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ (এ প্লাস) পেয়েছে। পাসের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে আলিম পর্যায়ে উপজেলার ৭টি মাদ্রাসা থেকে ১৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মধ্যে ৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ প্লাস পেয়েছে একজন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
এদিকে উপজেলায় এ বছর মতলব সরকারি কলেজ (বিএম) থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৪২ জন, পাসের হার ৫৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনিয়মিতা ও কোচিং নির্ভর শিক্ষার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল পাঠদানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এবং ফলাফলে ধস নামছে।
এ বিষয়ে ড. সামছুল হক মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি কলেজে নাই, মালিক কলেজ বন্ধ করে দিছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান জানান, ড. সামছুল হক মডেল কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের কথা জেনেছেন। এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করা হবে।


