চাঁদপুরে বানভাসীদের আশ্রয় কেন্দ্রে কিস্তি আদায়ে এনজিও কর্মীরা

বিল্লাল ঢালী:
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা অতি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও উজানের পানিতে বন্যা কবলিত। বিগত ১৫ দিন যাবত পানিবন্দী এই উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। অনেকের ঘরবাড়িতে এখনো রয়েছে কোমর সমান পানি। বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে তাই ভুক্তভোগীরা আশ্রয় নিয়েছেন নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে। এমনিতে বন্যায় কর্মহীন এসব মানুষ। উপজেলা প্রশাসন, ব্যক্তি উদ্যোগে ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন থেকে প্রাপ্ত ত্রান সামগ্রী সহায়তা দিয়ে চলছে তাদের সংসার। অসহায় মানুষ এমন কষ্টে থাকার পরও বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে কিছু এনজিও কর্মীদের।

তারা প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের নানা ভাবে চাপ দিচ্ছে ঋণের টাকা পরিশোধের। যদিও গত ২৫ আগস্ট রেজুলেশনের মাধ্যমে দেশের চলমান বন্যা কবলিত এলাকায় সকল এনজিও সংস্থার ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেয় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটারি অথরিটি। পাশাপাশি নির্দেশনা দেয়া হয় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষ চাইলে জমানো সঞ্চয় ফেরত ও নতুন করে ঋণের সুবিধা দেয়ারও। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন থেকে মিটিং এর মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হয় বিভিন্ন এনজিওগুলোকে। এসবের তোয়াক্কা করছে না কিছু এনজিও কর্মকর্তারা। নির্দেশনা না মেনে ঋণের কিস্তি আদায়ে তৎপর তারা।

সরজমিনে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানকারী কিছু বানভাসি মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিগত ১৫ দিন যাবত তারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা কবলিত হয়ে। তারা প্রত্যেকেই নিম্ন আয়ের মানুষ। এখনো তাদের ঘরবাড়িতে আছে পানি। গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখনো পানির নিচে তলিয়ে। বন্যা কবলিত হওয়ায় এলাকার মানুষজন হয়ে পড়েছে কর্মহীন। এমন অসহায় অবস্থায় থাকার পরও কিছু এনজিও থেকে প্রতিনিধিরা আশ্রয় কেন্দ্রে আসছেন ঋণের কিস্তি আদায় করতে। নানাভাবে তাদেরকে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে করা হচ্ছে হয়রানি। এমনিতে আমাদের কাছে এখন কোন কাজ নেই। বন্যা কবলিত হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। অন্যের দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী থেকে এখন আমাদের সংসারের খাবার জোটে। বন্যার পানিতে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের বাড়িঘর সহ আসবাবপত্র সবকিছু। বন্যার পানি কমলে আমরা বাড়িতে ফিরে যাবো। নতুনভাবে মেরামত করতে হবে ঘরের সবকিছু। তাই নিয়ে আমরা আছি দুশ্চিন্তায়। আমরা এমন পরিস্থিতিতে ঋণের টাকা শোধ করব কিভাবে। আমরা তাদেরকে বলেছি আমাদেরকে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত সময় দিতে তারপর আমরা ঋণের টাকা পরিশোধ করব। তারা মানতে রাজি না আমাদের এসব কথা। তাদের কথা হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতেই দিতে হবে ঋণের কিস্তির টাকা । জানিনা আমাদের ভাগ্যে কি আছে। আমরা এ বিষয়ে সরকারের সহায়তা কামনা করছি। আমরা ঋণের টাকা পরিশোধ করব না এমন কথা বলছি না। ঋণ যখন নিয়েছি তা আমাদের শোধ করতে হবে। আমাদের একটু ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময়ের প্রয়োজন। বন্যা পরবর্তী সময়ে আমাদের যদি দুই থেকে তিন মাস সময় দেয়া হয় তাহলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি যেন এমন একটি নির্দেশনা দেয়া হয় এনজিওগুলোকে।

ঋণের কিস্তি আদায় বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাত বলেন, ২৫ আগস্ট ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা থেকে একটি নির্দেশনা পাই। সে মোতাবেক উপজেলায় যে কয়টি এনজিওর কার্যক্রম চলমান আছে তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে দুর্যোগ কালীন সময়ে বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ থাকবে। এবং এ সময় যদি কোন গ্রাহক তার সঞ্চয় ফেরত নিতে চায় তবে এনজিওগুলোকে সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে এবং  গ্রাহক যদি নতুন ভাবে ঋণগ্রহণে আগ্রহী হয় তবে তাকে নতুনভাবে ঋণ দানের। আমি আবারো এনজিও গুলোর সাথে কথা বলবো। বন্যা কবলিত অসহায় মানুষদের কথা বিবেচনা করে তাদের যে দাবি দুই থেকে তিন মাস কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখা এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিষয়টাকে যৌক্তিক মনে করি।

(চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় একটি আশ্রয় কেন্দ্রে বানবাসীদের কাছে কিস্তির টাকা আদায়ে এনজিও কর্মী।)