ইলিশের শহরে প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

নদীবিধৌত রূপালি ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর সেজেছে এক অপরূপ সাজে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ চাঁদপুর সফরে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার মতোই জনতরঙ্গের জোয়ার নেমেছে জেলা জুড়ে। খাল খনন, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, পর্যটন কেন্দ্রের আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের একগুচ্ছ নতুন স্বপ্ন নিয়ে বুক বেঁধেছে চাঁদপুরবাসী। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এক নতুন রূপকথার জন্ম দেবে চাঁদপুর এমনই প্রত্যাশা ও ভালোবাসায় বর্ণিল সাজে সেজে আজ প্রস্তুত ইলিশের রাজধানী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিনব্যাপী এ সফরে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম উদ্বোধন এবং জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন। সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার গুলশানের সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টায় শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়াবুক বাজার এলাকায় ঘোর্থখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
এরপর সকাল ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাটে উপস্থিত হয়ে বিশ্বখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।
দুপুরে সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। পরে বিকেল ৫ টা একই সড়কে চাঁদপুর জেলা বিএনপির নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
সন্ধ্যা ৭টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ করবেন তিনি এবং রাত ১০টায় গুলশানের বাসভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সরকারি সফর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মোঃ উজ্জল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সফর সফল করতে সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। অপরদিকে জেলা বিএনপির তরফ থেকেও সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাঁদপুর আগমন উপলক্ষে আজ ১৫ মে শুক্রবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে চাঁদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস বিফিং করা হয়েছে।
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া তিন নদীর তীর ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এখান থেকে দেখা যায় তিন নদীর মিলন, মনোরম সূর্যাস্ত এবং মাছ ধরার অপরূপ দৃশ্য। সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাঁদপুরের সুধী সমাজের সাথে মতামতের ভিত্তিতেই প্রশাসন পরিকল্পনা সাজায়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে বলে আশা সচেতন মহলের।
চাঁদপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা অপেক্ষায় আছি নেতার জন্য। তিনি শুধু বিএনপির প্রধানতম নেতা নয় তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরা তাঁর অপেক্ষায়। তাঁর জন্য সকল নেতা কর্মীর মাঝে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা।
চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, আমরা চাই চাঁদপুর যেহেতু ঢাকার কাছাকাছির শহর তাই পর্যটনের দিকে নজর দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা যুবদলের নেতা কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে বসে আছি।
সাহিত্য একাডেমি চাঁদপুর এর পরিচালক (সাহিত্য) মাইনুল ইসলাম মানিক বলেন, চাঁদপুর সাহিত্যের জন্য চারণভূমি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নজর দিবেন এমন প্রত্যাশা রাখি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা বলেন, চাঁদপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব ১ ঘন্টার নিচে নামিয়ে আনতে মাল্টিপারপাস যোগাযোগ স্থাপন জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চাঁদপুর সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম। সফরকে সফল, সুশৃঙ্খল করতে খালখনন, ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনস্থল এবং সাংগঠনিক সভা ভেন্যু পরিদর্শন করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বিশ্ব খাল, চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ ও চাঁদপুর ক্লাব পরিদর্শন করা হয়। এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং সফর উপলক্ষে চলমান প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। প্রতিনিধিদল বিশ্ব খাল এলাকায় চলমান খালখনন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
সকাল ১১টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং করেন চঁদপুর জেলা বিএনপি সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরে ২০০ থেকে ২৫০ একর জমিতে ইপিজেড তৈরী করা সম্ভব। আমাদের দাবী থাকবে প্রধানমন্ত্রী এটি করে দিবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলার কমপেক্ষ দেড় লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরো সমৃদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, কিছু ফ্যাসিবাদি লোক অর্থনৈতিক জোন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য চড়াচ্ছে। তাদের অবগতির জন্য বলছি অর্থনৈতিক জোন অনুমোদিত। এটির কাজ চলমান থাকবে। পাশাপাশি ইপিজেড স্থাপন করাও আমাদের দাবী।
এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে আসবেন এতে জেলার জনগণ ও নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সকলে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন উনার বক্তব্য শুনার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। গণমাধ্যমে প্রচার হলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে।
মানিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সফরসূচির আলোকে তিনি প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক এলাকায় দুপুরে খোর্দ্দ খাল পুন:খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরপর বেলা পৌনে ২টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুন:খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং চাঁদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিবেন। সর্বশেষ বিকাল সাড়ে ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করবেন।
এসময় চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যাহ সেলিম, চাঁদপুর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ এ. কে. এম আবদুল মাননান, প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফসহ জাতীয় ও স্থানীয় গনমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফর শুধু একটি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সফর নয়, এটি চাঁদপুরবাসীর জন্য একটি সম্ভাবনার দ্বার। উন্নয়ন, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতেই এই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আমরা চাই, চাঁদপুরবাসী দৃশ্যমান উন্নয়নের সুফল পাক। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে চাঁদপুরবাসীর মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম ও সাংগঠনিক সভার আয়োজন—সবকিছুই মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সবসময় তৃণমূল মানুষের কথা ভাবেন। তাঁর এই সফরের মাধ্যমে চাঁদপুরে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে বলে আমরা আশাবাদী।
পরে তারা চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন। এখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মাঠের নিরাপত্তা, মঞ্চ নির্মাণ, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির নির্ধারিত সাংগঠনিক সভাস্থল পরিদর্শন করা হয়। সভাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক আয়োজন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন সফরসঙ্গীরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসছেন ইতোমধ্যে সকল ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, চাঁদপুরে শান্তিপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক একটি সফর করতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন স্পট পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. লুৎফুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম এন জামিউল হিকমা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন সাগর, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ মাঝি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন পাটওয়ারী, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান সোহাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।