ইসহাক ইসলাম জায়ান
ভোর ৬টা বাজতেই মতলব গুদারা ঘাটে চেনা হাতে বৈঠা তুলে নেন ৬৪ বছর বয়সী শাহজাহান মিয়া। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এভাবেই চাঁদপুরের মতলবের ধনাগোদা নদীতে নৌকা বেয়ে জীবনের চাকা সচল রেখেছেন বাইশপুর গ্রামের এই খেয়া মাঝি।
বাইশপুর গ্রামের দুলাল প্রধানের ছেলে শাহজাহান মিয়া। মাত্র ১২ বছর বয়সেই পরিবারের অভাবের খোরাক মেটাতে জীবনের প্রথম বৈঠা হাতে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে শুরু, এরপর কেটে গেছে চার দশক। এই খেয়া পারাপারের সামান্য আয় দিয়েই তিনি একে একে তার ৬ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে মতলব গুদারা ঘাটে শাহজাহান মিয়াসহ প্রায় ৫৫ জন মাঝি খেয়া পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম তার দীর্ঘদিনের সহপাঠী বজলু, আলী আহমেদ ও খোরশেদ। তারা সবাই প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন।
মাঝিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে তাদের প্রতিদিনের আয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আগে যেখানে দিনে মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হতো, তখন তারা অনেক ভালো ছিলেন। মাঝিদের মতে, তখন টাকার মান ছিল বেশি। আর এখন ৭০০-৮০০ টাকা আয় করেও নিত্যপণ্যের চড়া দামের বাজারে সংসার চালাতে তাদের চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মতলব গুদারা ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইজারাদার স্টাফ জামাল হোসেন নাজির জানান, পাশে নতুন ব্রিজ (সেতু) হওয়াতে ঘাটে যাত্রী সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করত, এখন তা কমে মাত্র ৩ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় যাত্রী এখন তিন ভাগের এক ভাগ।
যাত্রী সংকট আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জাঁতাকলে পড়েও ধনাগোদা নদীর বুকেই জীবনের শেষ বেলা পর্যন্ত বৈঠা টেনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন শাহজাহান মিয়ার মতো সংগ্রামী মাঝিরা।


