লাশ এখন কী করবে?

আবু ইউসুফ

বেলি ফুলের ডাল ফুল কলি পাতাসহ বৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে। মাটি ছুঁই ছুঁই। পিঁপড়ার দেশে বন্যা বয়ে যাচ্ছে। কিনার খুঁজতে খুঁজতে হাবুডুবু খাচ্ছে পরিবার। প্রতিবেশী স্বজন সবাই বেকারার হয়ে আছে। বৃষ্টিতে গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে। আবার পিঁপড়ার দল গাছের পাতা ধরে টানাটানি করছে। বাতাস  বইছেই। উপরে বড় বড় গাছের পাতা ঝরা পানি র্দুবিসহ পরিস্থিতি। নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে হঠাৎ বৃষ্টিতে। একটানা ঝরছেতো ঝরছেই। মাটির ফাঁকে ফাঁকে পানি ঢুকে মাটির গাঁথুনি নষ্ট হয়ে গেছে। গাছ গাছালিসহ অনেকের বাড়ি ঘর তলিয়ে যাচ্ছে।

এখন আপনার ভিটার কী অবস্থা? পাশের বাড়ির অমিত, মজিদ, পরশের বাড়ির লোকজন গরু ছাগল সব নিয়ে আমার ভিটায়।

কেমন আছি বুঝছেন তো জলিল ভাই।

মাদবরি অনেক করেন। এবার বুঝছেন আল্লাহর ইচ্ছায় কিনা হয়। বৃষ্টি বৃষ্টি করে সব পাগল হয়ে গেছে। এখন টানা বৃষ্টির ফলে কতজনার ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল বজ্রপাতে দক্ষিণপাড়ার ইসহাকের বাপ ছেলে ভাই মাঠে ধান কাটতে গিয়েছিল তিনজন কেল্লাফতে। এখন তিনজন নারী স্বামী হারা; গৃহরা, বাচ্চাদের আহাজারি।

একে তো নদীর ভাঙ্গনে ঘর বাড়ি চলে গেছে আবার তিন তিনজন লাশ যেখানে কবরস্থ করবে সেখানেও পানি উঠে গেছে। তলিয়ে গেছে তাদের কৃষি জমি গরু ছাগল। এদিকে লাশ অন্যদিকে নদী ভাঙ্গন। লাশ দাফন করবে নাকি পরিবারের অন্যদের বাঁচাবে?

এখানকার মেম্বার ভোটের সময় কত লেকচার মারে অথচ ছয়দিন এই এলাকার মানুষ কেমন আছে কোন খোঁজ খবর নিছে? আর যাই করুক লাশ দাফনের জন্য উপজেলা গনগোরস্থানে নেওয়ার ব্যবস্থাও তো করতে পারত।

ওই ফরিদ মিয়া দুইটা রং চা দাও লেবু চিনি কালোজিরা দিও। মেম্বার যে আইবো সে রাস্তার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে নদীতে অনেক স্রোত নৌকা নিয়া যে আইবো সেই অবস্থাও নেই।

তাই এখন লাশ কী করব…?