বাবুরহাটে অবৈধ বাস চলাচল, বাড়ছে যানজট

বিশেষ প্রতিনিধি:

চাঁদপুর-ঢাকা রুটে দীর্ঘদিন ধরে রুট পারমিট ও নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড ছাড়াই দেড় শতাধিক বাস চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জৈনপুর এক্সপ্রেস, মতলব পরিবহন ও জৈনপুর পরিবহনের এসব বাস চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট এলাকা থেকে যাত্রী পরিবহন করছে। এতে একদিকে যেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুরহাট এলাকায় সরকারি অনুমোদিত কোনো বাসস্ট্যান্ড না থাকলেও বছরের পর বছর ধরে এখান থেকেই ঢাকা অভিমুখী বাসগুলো যাত্রী উঠানামা করছে। বাসগুলো রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীরা।

বাসচালক ও স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাবুরহাটকে কোনো বাসস্ট্যান্ড হিসেবে অনুমোদন দেয়নি। তবুও অবৈধভাবে এখান থেকে নিয়মিত বাস চলাচল করছে। এমনকি এসব পরিবহনের অধিকাংশ বাসের বৈধ রুট পারমিট নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদপুর বিআরটিএ-এর কার্যালয় জানায়, কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ১০টি বাসকে ঢাকা-মুন্সিরহাট বাজার পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে কোন ১০টি বাস এ সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট তালিকা দেওয়া হয়নি। সেই সুযোগে বর্তমানে দেড় শতাধিক বাস এ রুটে চলাচল করছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাবুরহাট বাজার এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাস থেকে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কার্যক্রমে মতলব এক্সপ্রেস থেকেহাসান মাল টিকিট প্রতি দশ টাকা এবংজৈনপুর এক্সপ্রেস ও জৈনপুর পরিবহন থেকে কাউছার মাল টিকিট প্রতি দশ টাকা চাঁদা তোলেন। এ বিষয়ে মালের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আর কাউসার মাল এ বিষকে কথা বলতে নারাজ।

নিয়মবহির্ভূতভাবে বাস চলাচল এবং সড়ক দখল করে যাত্রী ওঠানামার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে এ দুই পরিবহনের বাস দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও প্রচুর রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চাঁদপুর বিআরটিএ-এর কর্মকর্তামো. সেকান্দর বলেন, পরিবহনের ফিটনেস ও কাগজপত্র নিয়ে নিয়মিতই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।চাঁদপুর আরটিসির কমিটির মেয়াদ নেই। খুব সহসায় সে কমিটি গঠন করা হলেও অনেক বিষয় তদারকির মধ্যে চলে আসবে।

চাঁদপুর বিআরটিএ-এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি.) আবদুল্লাহ আল মামুনের সাথে সম্প্রতি যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অনেক আগে জৈনপুর এক্সপ্রেসের ১০টিবাস চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু অন্য পরিবহনগুলোর এ রুটে চলাচলের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে কিভাবে চলছে এর কোনো সদুত্তোর দিতে পারেনি এ কর্মকর্তা।

সর্বশেষচলতি বছরের ২২এপ্রিলদায়সারাবিভিন্ন পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে৩৫.০৩.১৩০০.০০১.৩১.১৮.২০২৬.২৮৮ স্মারকেএকটি চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সড়কে শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যেআপনার ব্যানারে পরিচালিত সকল বাসের রেজিস্ট্রিশন নাম্বার উল্লেখসহ তালিকা প্রেরণের জন্য।এ তালিকা কয়েকটি পরিবহন তালিকা জমা দিলেও বাকীরা দেয়নি।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, “অবৈধভাবে সড়ক ব্যবহার কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে বাস পরিচালনার বিষয়টি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, “পূর্বের সভার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে যদি কোনো অনিয়ম বা সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সচেতন নাগরিকদের দাবি, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শহরের যানজট নিরসনে অবৈধ বাস চলাচল, ফুটপাত ও সড়ক দখল এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।