হোগল সংগ্রহে ব্যস্ত হাইমচরের চাষিরা

স্টাফ রিপোর্টার:

মেঘনা নদীবেষ্টিত চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরাঞ্চলে এখন মুখরোচক মৌসুমি খাদ্য ‘হোগল’ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও সংগ্রহকারীরা। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া হোগলা গাছের ফুল সংগ্রহ, শুকানো ও গুঁড়া তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।

রোববার (১৯ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনা ও খোলা জায়গায় হোগলা ফুল শুকানো হচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়ার পর ফুল থেকে সূক্ষ্ম হলুদাভ গুঁড়া সংগ্রহ করে চালুনির মাধ্যমে বিশুদ্ধ হোগল আলাদা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মৌসুমি খাদ্য হিসেবে পরিচিত।

জানা যায়, মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে জন্মানো হোগলা গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করা হয়। পরে কয়েকদিন রোদে শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় গুঁড়া তৈরি করা হয়। শ্রমসাধ্য এ কাজ বর্ষা মৌসুমে অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চরভৈরবী ইউনিয়নের পাড়া বগুলা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে চর থেকে হোগলা ফুল সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট হয়। তবে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সেই কষ্ট সার্থক হয়।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুধ, নারকেল, চিনি কিংবা গুড়ের সঙ্গে রান্না করলে হোগল অত্যন্ত সুস্বাদু খাবারে পরিণত হয়। অতিথি আপ্যায়নসহ বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে এর কদর রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি হোগল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় এর চাহিদা রয়েছে।

হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার বলেন, প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো হোগলা থেকে ফুল সংগ্রহে কোনো আপত্তি নেই। তবে কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে হোগলা চাষ না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, হোগল শুধু একটি মৌসুমি খাদ্য নয়, এটি চরাঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে হোগল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে অনেক পরিবার বাড়তি আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।