স্টাফ রিপোর্টার
ফরিদগঞ্জ উপজেলার মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক দপ্তরী কাম প্রহরী মো. সোহেল রানার চাকরি পুনর্বহালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে দেড় লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক বলেছেন, সোহেল রানা তাকে কোনো টাকা দেননি এবং চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো কথাও হয়নি।
অভিযোগকারী সোহেল রানা জানান, তিনি ২০১৩ সাল থেকে মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৭ জুন চার পিস ইয়াবাসহ ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে ১৪ দিন কারাগারে থাকার কথা জানান সোহেল। এরপর চাকরি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি।
সোহেল রানা বলেন, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। চাকরি হারানোর পর সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। এ অবস্থায় চাকরি ফিরে পাওয়াই তার কাছে বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠে। চাকরি পুনর্বহালের আশায় বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের কাছে যান বলে জানান সোহেল।
তার অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়ে কথা হলে শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করতে দুই লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে পরে দেড় লাখ টাকা দিতে বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সোহেল রানা জানান, চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় ব্যাংক ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে ওই টাকা দিয়ে আসেন বলে দাবি তার।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডেল এবং ১ হাজার টাকার নোটের একটি বান্ডেল—মোট দেড় লাখ টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এতে একদিকে চাকরি ফিরে পাওয়ার আশা পূরণ হয়নি, অন্যদিকে ঋণের বোঝা মাথায় চেপে বসেছে বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সে আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়েও তার সঙ্গে এমন কোনো কথা হয়নি।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সোহেল রানা আমাকে এ-সম্পর্কিত কিছুই জানায়নি।
এদিকে অভিযোগকারী দেড় লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করলেও প্রধান শিক্ষক তা অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


