চাঁদপুরে জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল বিক্রির অভিযোগে ইউপি সচিব বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

এর আগে রোববার (১২ অক্টোবর) শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে ৫ টন চালসহ একটি মিনি পিকআপ জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে জেলেদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা চাল তাদের মধ্যে বিতরণ না করে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। পরে চালগুলো চাঁদপুরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রশাসন সেগুলো জব্দ করে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাল পরিবহনের বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে হাজীগঞ্জ থেকে মিনি পিকআপটি চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫ টন চাল জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম। জব্দ করা চাল পরে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের (সিএসডি) গোডাউনে রাখা হয়। এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

চাল ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেয়া ইউনুস দাবি করেন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ৫ টন চাল কিনেছেন তিনি। দুপুরে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের পর সেগুলো লাকসামে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে পথে আলীগঞ্জ এলাকা থেকে প্রশাসনের নির্দেশে চালবোঝাই গাড়িটি চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।

ইউনুসের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা শামীম অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

এদিকে, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তার চাল বিতরণ না করে বিক্রির অভিযোগে সচিবের সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চাল বিক্রির অভিযোগ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।