স্টাফ রিপোর্টার
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের অভিযোগে চাঁদপুরের হাইমচরে যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৮ জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের মধ্যে ২৪ জনকে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়। উদ্ধার করা মাছ বিতরণ করা হয় স্থানীয় এতিমখানায়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ বাস্তবায়নে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেয় হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তর, নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়। পরে বয়স ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ২৪ জনকে প্রত্যেককে ২০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এসময় জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়। তবে উদ্ধার করা জালের পরিমাণ নিয়ে প্রাপ্ত তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে প্রায় ৫০ হাজার মিটার এবং বিস্তারিত বিবরণে প্রায় এক লাখ মিটার জাল উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ করা না গেলে ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদীতে নিয়মিত নজরদারি, অভিযান এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।


