নিহতের পিতা আব্দুল হাকিম বেপারী বাদী হয়ে একই গ্রামের আবুল বাবুর্চির ছেলে আরিফ মুন্সি, সামছুদ্দিন সরকারের ছেলে মোস্তফা কামাল, মোশারফ হোসেনের ছেলে মামুন বেপারীকে আসামি করে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. নাছির মিয়া সরাসরি জড়িত থাকলেও তাকে এজাহারে আসামি করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাছির মেম্বার মামলার ৩নং আসামি মামুন বেপারীর ফোনে সাদিয়া আক্তারের কিছু এডিট করা ছবি পাঠান এবং নিজেই তাদের বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি হুমকি দেন, টাকা না দিলে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, নাছির মেম্বার দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাবশালী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত।
যোগাযোগ করা হলে নাছির মেম্বার বলেন, সাদিয়ার আগের স্বামী আমার ফোনে কিছু ছবি পাঠিয়েছিল। আমি সেই ছবি মামুন বেপারীকে দিয়ে সাদিয়া ও তার পরিবারকে সতর্ক থাকতে বলেছিলাম। ওই ছবি দেখিয়ে মামুন ও মোশারফ কেবল সতর্ক করেছিল, চাঁদা দাবি করেনি।
অন্যদিকে মামলার আসামি মোস্তফা কামাল বলেন, আমি এলাকায় কাজীর কাজ করি। কিছুদিন আগে কাজীর বৈধতা নিয়ে মামলা হয়েছিল, আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেয়। এরপর প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বালাম বই উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। সেই প্রতিশোধ নিতে আমাদের এই আত্মহত্যার মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।


