৮ মাসে চাঁদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত সাড়ে ৮শ

স্টাফ রিপোর্টার

চাঁদপুরে দিন দিন ডেঙ্গুর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের গত সাড়ে ৩ মাসে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৬৮ জন। বর্তমানে ১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, যত্রতত্র ও বাড়ির আঙিনা অপরিচ্ছন্ন, বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকার কারণে ডেঙ্গু নামক এডিশ মশার জন্ম নিচ্ছে। বাড়ির আঙিনা যদি পরিস্কার পরিছন্ন থাকে তাহলে এডিশ মশার জন্ম ও বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হতো। আর এ মশার কামড় থেকে শহর ও আশপাশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম মাহবুবুর রহমান ডেঙ্গু জ্বরের রোগীদের জন্য আলাদাভাবে ওয়ার্ড খুলে চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে রোগী চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তিনি জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ডেঙ্গু-হাম সহ সব ধরনের রোগী ভর্তি আছে প্রায় ৬ শর মতো। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার জন্য বারান্দায় শয্যা বিছিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তার মধ্যে ডেঙ্গু আবার মহামারি আকার ধারণ করছে। আমরা এত প্রতিকূলতার মাঝে ও সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

তিনি আরো বলেন, জুলাই মাস থেকে চাঁদপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর এ সময়টাতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, ডেঙ্গু পরীক্ষার কীটসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরো জানান, সাড়ে তিন মাসে( জুন থেকে সেপ্টেম্বর চলতি) প্রায় ১৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী কে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ্য করা হয়েছে। জুন মাসে ৬ জন, জুলাই মাসে ৩৬ জন ও আগস্ট মাসে ৮১ জন। আর চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন। এখনো চিকিৎসাধীন আছে ১৩ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৭ জন ও মহিলা ৬ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৭৩৩ জন। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৪ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪৭ জন।
এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯৩ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২৫৬ জন। কচুয়ায় ১৪২ জন এবং ফরিদগঞ্জে ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।