কৃষি ব্যাংক স্থানান্তরের প্রতিবাদে কার্যালয়ে তালা

স্টাফ রিপোর্টার

দুই দশকের বেশি সময় ধরে যে স্থানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সেবা নিয়ে আসছেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের আমতলী বাজার ও আশপাশের মানুষ, হঠাৎ সেই স্থান থেকে ব্যাংকের শাখা সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। আপত্তির একপর্যায়ে মঙ্গলবার ব্যাংকের পুরনো কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তালা খুলে ব্যাংকের মালামাল নতুন কার্যালয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

চরভৈরবী ইউনিয়নের আমতলী নতুন বাজারে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চরভৈরবী শাখা স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই পাশের একটি নতুন ভবনে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে শাখা স্থানান্তর নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি এখনো কাটেনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরনো কার্যালয়টি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেখানে যাতায়াত সহজ ছিল। এর আশপাশে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ভূমি অফিস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় মানুষ একই সঙ্গে একাধিক সেবা নিতে পারতেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটি সেখানে থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গেও এর একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু ভবন বড় হলেই হবে না, ব্যাংকের অবস্থান গ্রাহকদের জন্য কতটা সুবিধাজনক সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহকদের বড় একটি অংশ কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের জন্য বাজারের কেন্দ্রস্থলে ব্যাংকটি থাকা বেশি সুবিধাজনক।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পুরনো ভবনটি ছোট ও সংকীর্ণ হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গ্রাহকদের স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বড় ভবনে শাখাটি স্থানান্তর করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আমতলী বাজার এলাকায় রফিক শিকদারের মালিকানাধীন একটি ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চরভৈরবী কৃষি ব্যাংক শাখার কার্যক্রম চলছিল। ভবনটির সঙ্গে ব্যাংকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পাশের ইকবাল মাস্টারের মালিকানাধীন একটি ভবনে শাখাটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। নতুন ভবনটি তুলনামূলক বড় হওয়ায় সেখানে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

তবে শাখা স্থানান্তরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রাহকদের একটি অংশ এর বিরোধিতা শুরু করেন। তাদের দাবি, ব্যাংকটি আগের স্থানেই রাখা হোক।

আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. শাহাদাত বলেন, দুই দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংকটি এখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখানে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, ভূমি অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ব্যাংকটি যাতে আগের জায়গায় ফিরে যায়।

স্থানীয়দের অসন্তোষ একপর্যায়ে প্রকাশ্য রূপ নেয়। ব্যাংক যাতে আগের স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া না হয়, সে দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুরনো অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিতুর উপস্থিতিতে ভবনের তালা ভেঙে ব্যাংকের মালামাল নতুন ভবনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পুরনো কার্যালয় থেকে ব্যাংকের মালামাল সরিয়ে নতুন ভবনে নেওয়া হয় বলে জানান চরভৈরবী কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল গফুর পাটওয়ারী।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, বাজারের কেন্দ্রস্থল থেকে ব্যাংক সরিয়ে নেওয়া হলে এর প্রভাব পড়তে পারে আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। ব্যাংকে টাকা জমা ও উত্তোলন, ঋণসংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন গ্রাহকেরা আসতেন। তাদের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে বাজারের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ত বলে তাদের দাবি।

চরভৈরবী কৃষি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল গফুর পাটওয়ারী বলেন, আগের জায়গার অফিসটি অনেকটা সংকীর্ণ ছিল। এত ছোট কক্ষে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা আমাদের জন্য বেশ কষ্টকর ছিল। অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন জায়গায় বড় অফিসে মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরোনো অফিসে তালা দেওয়ার কারণে মালামাল সরিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সকালে অফিস থেকে মালামাল সরিয়ে নতুন কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইকরামুল হক বলেন, নতুন অফিসটি গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বেশ ভালো হয়েছে। অফিসও অনেক বড়। গ্রাহকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে এসে তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।