স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দামোদরদী গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আম্বার মিজি (৬০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠক করে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সালিশে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দামোদরদী গ্রামের আম্মুর মাঝির বিরুদ্ধে ওই শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত রাতে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া এর আগেও শিশুটিকে অশালীন ইশারা ও ইঙ্গিত দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আজ স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিল্লাল মোল্লা, আলাউদ্দিন মোল্লা, দুলাল বেপারী, নিজামুদ্দিন বেপারী, আলমগীর বেপারী, শরীফ চৌধুরী ও রুহুল আমিন বেপারী উপস্থিত থেকে সালিশে ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে (নামপ্রকাশ করা হলো না) ওই শিশুর পরিবারের এক সদস্য জানান, সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে বেতন পাওয়ার পর জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অভিযুক্তকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাবেদ বলেন, “আমি ঢাকায় আছি। তবে তাঁরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি বলেছি, এটা আমরা করতে পারব না।”
অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে বসেছি। তাতে কী হয়েছে? বলে উল্টো প্রশ্ন ছুড়েন এ নেতা।
একটি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ সালিশের মাধ্যমে জরিমানা নির্ধারণ ও এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


