স্টাফ রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরাসমাস প্লাস প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রোভার স্কাউট লিডার নাজমুল হাসান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির আর্থিক সহায়তা ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় এ সফরে তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম, গবেষণাগার, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
ইস্তাম্বুল গেলিশিম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নাজমুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিক্ষার্থী সেবার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক ড. আলিসা ও ইরাসমাস প্লাস বিশেষজ্ঞ ইয়ারেনের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষণা কেন্দ্র ও পেটেন্ট সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সময় ব্যবস্থাপনা, কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্ম-উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নির্ধারণ বিষয়ে বিভিন্ন সেশনে অংশ নেন তিনি। কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা, ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পোমোদোরো পদ্ধতির মতো কার্যকর কৌশল সম্পর্কে শেখেন। এসব অভিজ্ঞতা কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণাগার ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি গবেষণাগার পরিদর্শন ছিল সফরের উল্লেখযোগ্য অংশ। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগও পান। সেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানসিক দৃঢ়তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন।
প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখেন নাজমুল হাসান। ব্লু মসজিদ, হায়া সোফিয়া, হিপোড্রোম, গ্র্যান্ড বাজার ও তোপকাপি প্রাসাদ পরিদর্শন করেন তিনি। বিশেষ করে তোপকাপি প্রাসাদে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র নিদর্শন দেখার অভিজ্ঞতাকে তিনি আবেগঘন ও স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বুরসা ভ্রমণে পাহাড়ি সৌন্দর্য, কেবল কারে যাত্রা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগের সুযোগ হয় তাঁর। দোলমাবাহচে প্রাসাদ, চামলিজা মসজিদ, পিয়ের লোতি পাহাড় ও বসফরাসে নৌভ্রমণও সফরকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। ইস্তাম্বুলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বিদেশের মাটিতে দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার অভিজ্ঞতাও লাভ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে ইস্তাম্বুল গেলিশিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাজমুল হাসান। তাঁর মতে, এ সফর শুধু বিদেশ ভ্রমণ নয়; বরং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিতি, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান এবং আত্ম-উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের পাশাপাশি পেশাগত উন্নয়নেও অনুপ্রেরণা জোগাবে।


