আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সমঝোতা চুক্তির পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছালেও সরাসরি বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ইরানের দাবি, তাদের প্রতিনিধিদলের দোহা সফরের উদ্দেশ্য কাতারে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে দোহায় পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের কারিগরি প্রতিনিধিদলের সফরের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই ছিল ওই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। তবে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় সমঝোতার অগ্রগতি অনেকটাই থমকে গেছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দোহায় বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমন। তবে এটি আগের কারিগরি বৈঠকের মতো হবে না। এছাড়া বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের কারিগরি প্রতিনিধিদল পৃথক বৈঠক করতে পারে বলেও জানা গেছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “দোহার বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। আমরা অপেক্ষা করে দেখব।”
হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, এ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় এবং নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কাতারে জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদের মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার ছাড় করা হবে এবং তা ইরানে ফেরত আসবে। তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিকে ইরানি জনগণের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমনে তিনি ওমানের সঙ্গে কাজ করছেন এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ১৪ দফার সমঝোতা পরিকল্পনা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের দায়িত্ব শুধুমাত্র ইরানই পালন করবে।


