স্টাফ রিপোর্টার
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে নৌ পুলিশ। গত ১৫ দিনে পরিচালিত অভিযানে ৭১টি মামলায় ৩৭৯ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৫ মিটার অবৈধ জাল, ৪৫টি নৌকা ও ১০ মণ ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। অভিযানে বাধা দিতে গিয়ে জেলেদের হামলায় চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজমগীর হোসাইনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত ৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ১০৩ জন শিশু রয়েছে। তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একশ্রেণির জেলে রাতের আঁধারে নদীতে নেমে মাছ শিকার করছেন।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজমগীর হোসাইন জানান, গত ১২ অক্টোবর রাতে অবৈধ জাল ও মাছ ধরার নৌকা উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় কাচিকাটা এলাকায় নৌ পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান জেলেরা। এরপর ১৫ অক্টোবর মোহনপুর এলাকায় এবং সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর বহরিয়া এলাকায় অভিযান চালানোর সময়ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি বলেন, হামলায় তার গাল ও পিঠে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ রয়েছেন। এ ছাড়া তার সঙ্গে থাকা নৌ পুলিশের পাঁচ সদস্যও গুরুতর আহত হয়েছেন।
ওসি আরও জানান, রাতে অভিযানে যাওয়ার সময় জেলেরা তাদের নৌকায় ইট-পাটকেলসহ বিভিন্ন বস্তু মজুত করে রাখেন। পরে অভিযান চালাতে গেলে সেগুলো নিক্ষেপ করে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌ পুলিশকে এসব অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, অভিযানে জব্দ করা ১০ মণ ইলিশ মাছ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। জব্দ করা অবৈধ জালের মধ্যে বেশ কিছু জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি কিছু জাল মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১০৩ জন শিশুকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ আজমগীর হোসাইন বলেন, জেলেরা যত বাধাই সৃষ্টি করুন না কেন, মা ইলিশ রক্ষায় নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


