ফরিদগঞ্জে একরাতে দুই গরুর রহস্যজনক মৃত্যু ! 

শামীম হাসান: 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় গ্যাস জাতীয় মেডিসিন দিয়ে গর্ভে বাছুর বহন করা দু’টি গরু মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।  গরুর মালিক ও স্থানীয়দের সন্দেহ, অতিরিক্ত নেশা জাতীয় মেডিসিন দিয়ে গরু চিন্তাই করতে গিয়ে গরু দু’টি মারা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) দিবাগত রাতে মারা যাওয়া গরু গুলো একটি  উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের আসৎকুয়ারী গ্রামে মরহুম আব্দুল মতিন খান বাড়ির কার্তিক দে’র। গরুটি গত ৫ মাস দরে গর্ভে বাছুর বহন করছে। অপর গরুটি একই গ্রামের (হুতার বাড়ির) মনা খলিফার ছেলে অমল দে’র গরু। এগরুটিও গত ৭ মাস ধরে গর্ভে বাছুর বহন করছে।

স্থানীয় ডাঃ আব্দুল কাদের খান সোহাগ, নান্নু দেওয়ান, আরিফ দেওয়ান জানান, গত ৩ মাসে দক্ষিণ শাশিয়ালী ১টি গরু ও আসৎকুয়ারী গ্রামে ৪টি গরু চুরি হয়। এর মধ্যে অমলদের একটি গরু ছিলো। গতরাতে তার একটি গরু মারা যায়, এটা খুবই দুঃখ জনক। আমরা যতটুকু জানতে ন্পেরেছি, গরু দু’টি নেশা জাতীয় মেডিসিন বা গ্যাস বা বিষ প্রয়োগ করে মারা হয়েছে। সম্ভবত গরু দু’টি চুরি করতে এসেছেই কে বা কাহারা এময় ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি। মারা যাওয়া গরুগুলোর মালিক দুই জনের পরিবারিক ভাবে দারিদ্রতার  গ্লানি টেনেই জীবনযাপন করছেন। এমন সময় তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার।

মারা যাওয়া গরুর মালিক কার্তিক দে ও তার স্ত্রী জানান, সন্ধ্যা রাতে সুস্থ গরুকে খাবা দিয়েছি, পরে রাত ১০টায় দিয়েছে, এর পরে আমরা ঘুমাইতে গেছি, আবার রাত ২টা বাজে উঠে দেখি গরু ঠিক আছে কিনা, কারন প্রায় সময় গরু চুরির খবর শোনা যায়, চোরের ভয়, তাই মাঝেমধ্য রাতে উঠে গরু চেক করি। সুস্থ গরুকে খড় দিয়ে আমরা ঘুমাইতে গেছি। যখন ফজরের আযান দেয়, তখন বুজলাম গরুর ডাক শোনা যাচ্ছে, জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে। দৌড়ে এসে দেখি মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরই গরু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা গেছে। গরুটি আমাদের পাশ্ববর্তী বাড়ির জিতু গাজির থেকে ইজাড়া হিসেবে এনেছিলাম। কারন আমাদের গরু কিনার সামর্থ্য নাই।

অমল দে জানান, আমার দু’টি গরু ছিলো, গত দুই মাস আগে একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এরপর আমার এ গরুটিই একমাত্র সম্বল ছিলো। তাও নেশা জাতীয় গ্যাস দিয়ে গরুটিকে মেরে ফেলেছে। গোয়াল ঘরের ভিতরে দুইটা গ্যাস জাতীয় ঔষধ পেলাম, এটা কেউ ইচ্ছাকৃত করেছে। না হয় সুস্থ গরু এভাবে মারা যায় না। আমার গতকালও সন্দেহ হয়েছে কেউ গরুকে গ্যাস ঔষধ দিয়েছে, পরে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খাওয়াছি। ৭ মাস গরুর গর্ভে বাছুর। অনেক টাকা খরচ করেছি গরুর পিছনে। অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। তার মধ্যে এঘটনা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুকবুল হোসেন বলেন, আমি ঘটনা শুনে তাদের বাড়িতে গিয়েছি, এমন ঘটনা খুবই দুঃখ জনক, মারা যাওয়া গুরুর মালিক উভয় দরিদ্র পরিবার। এক রাতে গরু দু’টি মারা যাওয়াও সন্দেহজনক, কারা এর সাথে জড়িত বা কিভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত না। এছাড়া এলাকায় গত দুই তিন মাসের মধ্যে ৫টা গরু চুরি হয়েছে। সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এবং তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তবানদের আহ্বান করছি।