স্টাফ রিপোর্টার:
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে একদিন সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন রিয়াজ উদ্দিন (৪৩)। লক্ষ্য ছিল কঠোর পরিশ্রমে মা, স্ত্রী আর সন্তানের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি, রিক্ত হাতে ফিরতে হয়েছে স্বদেশে। হার না মেনে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু অদম্য সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত হেরে গেল মাদকের মরণনেশার কাছে। নেশার টাকা আর পারিবারিক কলহের জেরে অবশেষে গলার ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে ফরিদগঞ্জ পৌরএলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের কাছিয়াড়া গ্রামের রাঢ়ী বাড়ি থেকে রিয়াজের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার মৃত খোরশেদ আলমের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবাসফেরত রিয়াজ গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের উপার্জনের সিংহভাগই তিনি ব্যয় করতেন গাঁজা ও ইয়াবার পেছনে। মাদকের এই ভয়াবহ নেশার কারণে সংসারে প্রতিনিয়ত অভাব-অনটন লেগেই থাকত। ঘরে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও অবুঝ শিশুর আহার জুটলেও রিয়াজের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছিল নেশার টাকা। এই নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিনের অশান্তি ও কলহ বিরাজ করছিল।
নিহতের স্ত্রী মিতু আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, আমার স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে যা পেতেন, তার সবই নেশায় উড়িয়ে দিতেন। মাদক সেবনে বাধা দিলেই সংসারে অশান্তি চরমে পৌঁছাত। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আমাদের অগোচরে ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
বৃদ্ধা মা নুরুন্নাহার বেগমের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। তিনি বিলাপ করতে করতে বলেন, ছেলের হাত ধরে সুদিনের আশায় বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে দেশে ফিরে কর্ম করে খাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু কু-সঙ্গ তাকে পথভ্রষ্ট করে দিল। মাদক তাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিল।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদকের প্রতি আসক্তি এবং এর ফলে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের জেরেই এই আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে।
মাদকের এমন নীল দংশনে একটি সাজানো ঘর তছনছ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সময় থাকতে মাদকের এই শিকড় উপড়ে ফেলা না গেলে আরও অনেক ‘রিয়াজ’ অকালেই ঝরে পড়বে।


