বর্ষণহীন এলো বর্ষা!

রিফাত কান্তি সেন

আকাশ কিছুটা কালো হয়ে এসেছে। মনে হচ্ছে এ বুঝি নামবে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। যদিও এখন পর্যন্ত বৃষ্টির কোন ঘনঘাটা দেখা যায়নি তবু দিনপঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী আজ বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন। ষড়ঋতুর বাংলায় বর্ষা দ্বিতীয় ঋতু।

আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসকে বর্ষা হিসেবে ধরা হয়। এ সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়। খাল, বিল, মাঠ-ঘাট পানিতে থাকে টইটুম্বর। বর্ষা মানেই বাঙালির কাছে বিশেষ কিছু। মাছে-ভাতে যেহেতু বাঙালির ট্যাগ সেহেতু এ বর্ষায় দেখা মেলে দেশীয় প্রজাতির নানা ধরনের মাছের। কই, ভেদা, সিং, বাইং, পুঁটি, মলা, ঢেলা সহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় প্রজাতির মাছে ভরে যায় পুকুর, ডোবা, খাল-বিল।

বর্ষা শুধু বর্ষণ নিয়েই আসে না, মাঝে মাঝে প্রকৃতির রূপ পালটে দেয়। মেঘলা আকাশে যেন মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার এ বর্ষায় বন্যার প্রবনতাও দেখা যায়। তবে কবি, সাহিত্যিকরা বর্ষাকে কেন্দ্র করে লিখে থাকেন। এ যেমন গানের সুরে, আজি ঝড় ঝড় মুখরও বাদলও দিনে। কিংবা ওগো বৃষ্টি তুমি এমন করে ঝড়ো না।

গ্রীষ্মের শেষ বর্ষার শুরুতে ফল ও ফুলেরও দেখা মেলে। মধু মাসের শেষে বাজারে পাওয়া যায় আম, কাঁঠাল ও লিচু।

বর্ষায় ফুটে কদম ফুল। গাছে গাছে কদম ফুল আপনার হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতির জানান দিবে।  যদিও কালে-ভদ্রে এখন হারাতে বসেছে কদম ফুল। অবহেলা আর অযন্ত্রে বেড়ে ওঠা গাছটির প্রতি মানুষের তেমন আবেগ জন্মায়নি। তারপরও ফুলের প্রতি মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা।

বর্ষা অনেকের কাছে আশির্বাদ হলেও কারো কারো কাছে অভিশাপ। এ যেমন খেটে খাওয়া মানুষরা অতি বৃষ্টির ফলে বিপদে পরেন।

তবু প্রতি বছর বর্ষা আসে, প্রকৃতি সাজে নবরূপে। হয়তো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষাকে সেই আগের রূপে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবুও লোকে ভালবাসে বর্ষাকে।