অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, নড়াইল থেকে গ্রেফতার ৪ প্রতারক

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুরে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে সক্রিয় একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড—এর মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম—এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক থেকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে এডিট করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে প্রতারণা করে আসছিল। এসব পেজে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয় ও অনলাইন জবসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো।

প্রতারকরা লোভনীয় অফার দিয়ে বুস্ট পোস্টের মাধ্যমে এসব বিজ্ঞাপন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিত। পরে ক্রেতাদের সঙ্গে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ভুয়া নামে নিজেদের প্রকৃত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত।

প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে নকল ভাউচারও তৈরি করত। ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল তাদের অন্যতম কৌশল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দুটির সূত্র ধরে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—নড়াইল জেলার কালিয়া থানার আমতলা-কলামনখালী এলাকার ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), নওয়াগ্রাম শেখ বাড়ি এলাকার চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), একই এলাকার রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, একই ঘটনায় এর আগে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ।